খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 28শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১২ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে বর্তমানে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন কবি, লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাবকেই তিনি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার নেই।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে গণশক্তি সভা আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে বঞ্চনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘ড. ইউনূস শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সংবিধানের অধীনে একজন উপদেষ্টা মাত্র—তিনি গণঅভ্যুত্থানের নেতা নন, বরং সেই অভ্যুত্থানের একটি ফল। ছাত্ররা ঘোষণাপত্র দিতে চেয়েছিল, কিন্তু সরকার মিথ্যা অজুহাত দিয়ে তা বন্ধ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবের কারণে এই গণঅভ্যুত্থান যদি ব্যর্থ হয়, আমরা আবার লড়াই করে গণ-অভ্যুত্থানের দিকে যাবো। গণ-অভ্যুত্থানের শুরুতেই আমরা বলেছি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। যে তরুণরা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে, বুকের রক্ত দিয়ে এ গণ-অভ্যুত্থান করেছে তারা বলেছে, আসেন আমরা জাতীয় সরকার করি। শেখ হাসিনার যে ফ্যাসিবাদী সংবিধান ফেলে দিয়ে আসেন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করি। কেন আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে চাই, কারণ জিয়াউর রহমানও এইরকম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারে ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি কি সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা জাতীয়তাবাদ এসবের জন্য যুদ্ধ করেছেন? বায়াত্তরের সংবিধান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
বিএনপির উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আপনারা কেন এই সংবিধান ধরে রাখতে চান? জিয়াউর রহমান তো বাহাত্তরের সংবিধানকে ধরে রাখতে চাননি। আমি যতটুকু জানি, বেগম খালেদা জিয়াও এই সংবিধান ধরে রাখতে চাননি। তিনিও বলেছিলেন, এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তাহলে আপনারা কেন গণঅভ্যুত্থানের ওপরে চাপ দিয়ে এই সংবিধান ধরে রাখলেন এবং একটা প্রতিবিপ্লব ঘটিয়েছেন, যা করার কথা ছিল তা না করে কার জন্য এটা করলেন?’
বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই আপনারা নির্বাচন নির্বাচন করতে লাগলেন। জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাননি কেন আপনারা। নির্বাচন মানেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। শেখ হাসিনাও নির্বাচন করতো। এখন সবার আগে দরকার গণপরিষদ নির্বাচন। সেই গণপরিষদের সবাই মিলে ঠিক করবে কী ধরনের রাষ্ট্র আমাদের লাগবে।’
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কেমন সে গণসার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রের সকল সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। কোন প্রকল্প নিলে যারা এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনকি যারা লাভবান হবে তাদের এ-সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকতে হবে। আমলারা সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না, কারণ তারা অল্প টাকায় বিক্রি হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘একটা নির্বাচন দিলে সব হয়ে যাবে? রাষ্ট্র তো আগের জায়গাতেই আছে, সেনাবাহিনীও আগের জায়গাতেই আছে, কিছু বদল হয়নি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে সেনাবাহিনীর নৈতিক শক্তি মেরুদণ্ডকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেশ রক্ষা করার কথা বলেও লাভ নেই। আপনারা সেনাবাহিনীকে নির্বাচন করাতে চাইছেন, কারণ নির্বাচন করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। কিন্তু সেনাবাহিনীর কাজ তো নির্বাচন পরিচালনা করা নয়। সেনাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র আমরা নাগরিকরা সহ্য করবো না।’
অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম জিয়াউল হাসান, গণমুক্তি জোটের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, সাবেক সচিব কাসেম মাসুদ, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক ও লে. কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজসহ অন্যান্য বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত প্রকাশ করেন।
খবরওয়ালা/এসআর