খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১২ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুলনার ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি হরমোন ইনজেকশন দিয়ে কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বাড়ানো হয়।
মহারাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হারমোনি ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্রাহাম মাথাই জানান, কিশোরীটি ভারতের গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দার এলাকায় পাচার হয়ে অমানবিক অত্যাচরের শিকার হয়।
অন্য এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ এবং পুলিশের মানবপাচার বিরোধী ইউনিট যৌথ অভিযানে ২৩ জুলাই মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাইগাঁও থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।
মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের কমিশনার নিকেত কৌশিক পিটিআইকে জানান, এই পাচার চক্রের নয়জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী বাংলাদেশি নাগরিক। পাচারকারীদের পুরো চক্র ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, গত সপ্তাহে ভারতের তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে ১৫ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি কিশোরী স্থানীয় থানায় এসে সাহায্য চেয়ে জানায়, তাকে প্রতিবেশী বাড়ি থেকে এনে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয়েছিল। এর ভিত্তিতে পুলিশের অভিযানে আন্তর্জাতিক যৌনব্যবসার একটি চক্র ধরা পড়ে।
উদ্ধার হওয়া ১২ বছর বয়সী কিশোরীর বাড়ি খুলনার আমিরপুরে হলেও এখনো তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। ‘হারমোনি ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি আব্রাহাম মাথাই বলেন, কিশোরীটি স্কুলের পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ফেল করার কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর এক পরিচিত নারী তাকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পার করে কলকাতায় নিয়ে যায়, যেখানে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে বিমানে পাঠানো হয়।
স্বেচ্ছাসেবী শ্যাম কুম্বলে জানান, কিশোরীকে মুম্বাই থেকে গুজরাতের নাদিয়াদে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়, ধর্ষণ করা হয় এবং সেই ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখিয়ে যৌনশ্রমে বাধ্য করা হয়। এরপর তাকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। তিনি আরও জানান, গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ ওই কিশোরীর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক করেছে।
এই ভয়াবহ অপরাধের বিষয়ে ‘হারমোনি ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি আব্রাহাম মাথাই পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন, কিশোরীর কাছে পাঠানো প্রতিটি ‘খদ্দের’ অর্থাৎ গ্রাহককে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
শ্যাম কুম্বলে বলেন, মহারাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে তার সংগঠন ৫০ এর বেশি বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, “শুধু আমাদের সংগঠনই এত মানুষ উদ্ধার করেছে, তাহলে দেশের অন্যান্য জায়গায় আরও কত বিশাল সংখ্যক পাচার হয়, তা কল্পনা করা যায়।”
মহারাষ্ট্রের পুণে শহরের বুধওয়ারপেট এলাকায় কমপক্ষে হাজার দশেক বাঙালি নারী যৌনকর্মে জড়িত আছেন, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া নারীরাও রয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/এন