খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় যুবদলের এক নেতাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১২ জুন, ২০২৬) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই দুই অভিযুক্তকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
সোনারগাঁ থানায় দায়েরকৃত মামলার লিখিত অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় ভুক্তভোগী ওই নারী তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই গৃহবধূ নিজের ঘরের রান্নাঘরে দৈনন্দিন কাজ করছিলেন। এই সময় জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ এবং তাঁর সহযোগী শাহিন মিয়া আকস্মিকভাবে সেখানে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী নারীর মুখ চেপে ধরেন এবং তাঁর সন্তানদের বড় ধরনের ক্ষতি করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর সন্তানদের জিম্মি করে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে অভিযুক্তরা ওই নারীর হাত ও মুখ বেঁধে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ভুক্তভোগী নারী তাঁর নিজের বাসায় ফিরে আসেন। গত ১০ জুন সন্ধ্যার পর তাঁর স্বামী কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফিরে এলে ভুক্তভোগী পুরো ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তাঁকে অবহিত করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার সোনারগাঁ থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান দুই অভিযুক্ত মো. শহীদ ও শাহিন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পরিচয় এবং মামলার প্রাথমিক তথ্য নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | সিরাব এলাকা, জামপুর ইউনিয়ন, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১০ জুন, ২০২৬; বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টা |
| অভিযোগের ধরণ | মুখ ও হাত বেঁধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ |
| ১ম গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | মো. শহীদ (৪০), সাধারণ সম্পাদক, ২নং ওয়ার্ড যুবদল, জামপুর ইউনিয়ন |
| ২য় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | শাহিন মিয়া (৩৮), সহযোগী |
| অভিযান ও গ্রেফতারের তারিখ | ১২ জুন, ২০২৬ (শুক্রবার রাতে) |
| আইনি পদক্ষেপ | সোনারগাঁ থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান |
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশের তৎপরতায় এজাহারনামীয় প্রধান দুই আসামিকে শুক্রবার রাতেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ওসি আরও জানান, এই অপরাধমূলক ঘটনার সাথে অন্য কোনো আসামির সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করার লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বিধি মোতাবেক সম্পন্ন করা হচ্ছে।