ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে সোমবার সন্ধ্যায় এক রহস্যজনক ঘটনা ঘটে। আনুমানিক ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি। পুলিশ ও হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় হাসপাতাল এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে পড়েছে।
জরুরি বিভাগের বেসরকারি ট্রলিম্যান মো. হাসান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন একজন ব্যক্তি। পরে ট্রলিতে তুলে জরুরি বিভাগের ভেতরে প্রবেশের সময় তিনি নিজেকে তরুণীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, তার একজন পরিচিত আসছেন, তিনি এলে রোগীকে ভেতরে নেওয়া হবে।
এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত তরুণীটি ট্রলিতে অপেক্ষা করতে থাকেন। এই সময় ব্যক্তি বারবার ভেতরে নেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি কৌশলে মরদেহ ট্রলিতে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তরুণীকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, মৃত তরুণীর থুতনিতে কালচে দাগ লক্ষ্য করা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ নিহতের পরিচয় নিশ্চিত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করছে।
এদিকে হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
নিম্নে ঘটনাস্থলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| সময় | ঘটনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ | সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/সংস্থা |
|---|---|---|
| সন্ধ্যা ৬:৩০ | তরুণীকে সিএনজিতে আনা ও ট্রলিতে তুলে জরুরি বিভাগে প্রবেশের চেষ্টা | স্বামী পরিচয়ধারী ব্যক্তি, ট্রলিম্যান মো. হাসান |
| ৬:৩০–৮:১৫ | ট্রলিতে তরুণী রেখে অপেক্ষা এবং ভেতরে নেওয়ার অজুহাত | স্বামী পরিচয়ধারী ব্যক্তি |
| রাত ৮:১৫ | কৌশলে মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল চাঞ্চল্য | স্বামী পরিচয়ধারী ব্যক্তি, জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা |
| পরবর্তীতে | মৃত ঘোষণা, মরদেহ মর্গে স্থানান্তর, তদন্ত শুরু | হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প, সংশ্লিষ্ট থানা |
এ ঘটনা স্থানীয় জনগণ ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের মধ্যে শোক ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়ীদের শনাক্ত করা হবে।



