খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
আড়াইহাজার উপজেলার উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতির ঘটনা গত এক সপ্তাহে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র সাত দিনের মধ্যে পাঁচটি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটায় গ্রামীণ জনগণ আতঙ্কে ভুগছে। ডাকাতরা সাধারণত বসতবাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করছে।抵া বাধা দিতে গেলে অনেকেই মারধরের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা রাতের পালায় নিজস্ব পাহারা দিচ্ছেন।
সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে রবিবার ভোর আড়াইটার দিকে, উচিৎপুরা ইউনিয়নের ভৈরবদী এলাকায়। ২০–২৫ জনের একটি ডাকাত দল রাজন রায়ের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৬০,০০০ টাকা নগদ, সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার, পাঁচ ভরি রুপা এবং মোবাইল ফোন লুট করে। পরে একইভাবে দয়াল রায়ের বাড়িতেও ডাকাতি চালানো হয়। পরিবার ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতরা তাদের কুপিয়ে জখম করে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
একদিন আগে, শনিবার মধ্যরাতে খাগকান্দা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় ১০–১২ জন মুখোশধারী ডাকাত গ্রামীণ টেক্সটাইল শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। তারা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে, প্রাণে ভয় দেখিয়ে বড় দা উঁচিয়ে দমন চালায়। শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, ডাকাতরা তাদের ভয় দেখিয়ে দ্রুত সব মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নিয়েছে।
এর আগে, ১৬ ডিসেম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের খিরদাসাদীতে ব্যবসায়ী আব্দুর রব মিয়ার বাড়িতে ১৫–২০ জনের ডাকাত দল প্রবেশ করে। তারা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৭,২০,০০০ টাকা নগদ এবং অন্যান্য মালপত্র লুট করে। ব্যবসায়ী ও তাঁর শ্রমিকরা আহত হন। আহত এক শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিম্নে সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনা সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ | এলাকা | ডাকাতের সংখ্যা | লুটপাটের বিষয়বস্তু | আহত |
|---|---|---|---|---|
| ১৬ ডিসেম্বর | খিরদাসাদী, মাহমুদপুর | ১৫–২০ | ১০ ভরি স্বর্ণ, ৭,২০,০০০ টাকা নগদ | ২ |
| ২২ ডিসেম্বর | কদমতলী, খাগকান্দা | ১০–১২ | মোবাইল ফোন, নগদ টাকা | ০ |
| ২২ ডিসেম্বর | ভৈরবদী, উচিৎপুরা | ২০–২৫ | ৬.৫ ভরি স্বর্ণ, ৬০,০০০ টাকা নগদ | ৪ |
আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সুজন মিয়া নামের এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি। পুলিশ ডাকাতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং নিয়মিত টহল চালাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শীতকালকে সুযোগ মনে করে ডাকাতরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাই গ্রামবাসীদের অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।
গ্রামবাসীরা এখনও রাতের পালায় পাহারা দিচ্ছেন এবং স্থানীয় পুলিশি উপস্থিতি বৃদ্ধির জন্য জোর দাবি তুলেছেন। শীতের রাতগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে।