লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল ও গুলি নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘোরার সময় মো. নিশান ওরফে ছোট নিশান (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাঁর কাছ থেকে পিস্তল ছাড়াও ১২ রাউন্ড গুলি, একটি আধুনিক ছুরি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার পোদ্দার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের দাবি, নিশান পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং তাঁর বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটিতে তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-১১-এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু মঙ্গলবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিশানকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পোদ্দার বাজার এলাকায় তাঁর অবস্থানের খবর পাওয়া যায়।
তথ্য পাওয়ার পর র্যাবের একটি দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে নিশান মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে এলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। তখন সদস্যরা তাঁকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাঁর শরীর তল্লাশি করে একটি পিস্তল, ১২ রাউন্ড গুলি এবং একটি আধুনিক ছুরি উদ্ধার করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার করা পিস্তলটি ৫ আগস্টের পর চন্দ্রগঞ্জ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে একটি। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেছিল। লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এসব অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রব বলেন, নিশান পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য এর আগেও কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছিল। এবার র্যাবের অভিযানে তাঁকে অস্ত্রসহ আটক করা সম্ভব হয়েছে।
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিশানের বিরুদ্ধে র্যাব বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আগে থাকা হত্যা মামলাগুলোর বিষয়ও আইনগত প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, একজন তালিকাভুক্ত ও একাধিক মামলার আসামির কাছ থেকে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হলে তা শনাক্ত করা এবং অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান—দুই ক্ষেত্রেই তদন্তের প্রয়োজন হয়। উদ্ধার হওয়া পিস্তল ও গুলির উৎস এবং সেগুলো কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা তদন্তে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
গ্রেপ্তার নিশানকে বুধবার আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে চন্দ্রগঞ্জ থানা। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলাগুলোর পাশাপাশি নতুন অস্ত্র মামলার তদন্তও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

