জাতীয় পার্টি (জাপা) তার ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করেছে। এটি তাদের পার্টি চেয়ারপারসন গোলাম মোহাম্মদ (জি.এম.) কাদেরের নির্দেশনায় করা হয়। পার্টির প্রেস সচিব শৌর্য দীপ্ত সূর্য বুধবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন, মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং বুধবার একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শৌর্য দীপ্ত সূর্য জানিয়েছেন, “পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশনায়, ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা জাপার ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় শোকের প্রেক্ষিতে স্থগিত করা হয়েছে।”
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ছিল। তিনি প্রথমবার ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে তিনটি অনবরত নয়, ভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়, যা দেশের নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।
নিচের টেবিলে তার মৃত্যু ও জাতীয় প্রতিক্রিয়ার প্রধান তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত্যু তারিখ | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ভোরে |
| বয়স | ৭৮ বছর |
| রাজনৈতিক পদবী | সাবেক প্রধানমন্ত্রী; বিএনপি চেয়ারপারসন |
| রাষ্ট্রীয় শোক | ৩ দিন |
| জাতীয় ছুটি | ১ দিন |
| জাপার প্রতিক্রিয়া | ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল অনুষ্ঠান স্থগিত |
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর ছায়া ফেলেছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শোকসভা, মিলনমেলা ও স্মরণসভা আয়োজন করছে। বিশেষ করে জাপা তার বার্ষিকী স্থগিত করে জাতীয় শোকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।
রাজনীতিবিদ ও সাধারণ নাগরিকরা খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় শোকের সময়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সভা, অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম স্থগিত বা পুনঃনির্ধারণ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামনের কয়েক দিন দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিঃসঙ্গ ও সংযত থাকবে, যাতে জাতি তার নেত্রীর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পারে।



