খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় জেএসসি বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সহসভাপতি সাদিকুল ইসলামকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় নজরুল একাডেমি কেন্দ্রের পরীক্ষার হলে।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের মতে, আটককৃত নেতার কাছ থেকে গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ফটোকপি এবং উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় হাতেনাতে আটক হওয়ার পাশাপাশি, পরীক্ষার কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং নকলের দায়ে আরও দু’জন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রধান তথ্যসমূহ টেবিলে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আটককৃত | সাদিকুল ইসলাম (ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সহসভাপতি) |
| ঘটনা স্থান | নজরুল একাডেমি কেন্দ্র, ত্রিশাল |
| ঘটনা সময় | জেএসসি বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালীন, মঙ্গলবার |
| জব্দকৃত সামগ্রী | গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও উত্তরপত্র |
| অন্য বহিষ্কৃত শিক্ষক | আসাদুজ্জামান (বড়মা উচ্চ বিদ্যালয়), আহনাফ আবিদ রাফিন (নজরুল একাডেমি) |
| আইনগত ব্যবস্থা | মামলা দায়ের ও আদালতে প্রেরণ, তদন্ত চলছে |
| প্রশাসনিক মন্তব্য | উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উভয়ই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন |
পুলিশ ও প্রশাসনের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাদিকুল ইসলাম পরীক্ষার আগে কেন্দ্রের এক শিক্ষক থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ করে তা বাহ্যিকভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী তার উপস্থিতিতে নকল সরবরাহের চেষ্টায় তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “পরীক্ষা পরিদর্শনের সময় একজন শিক্ষক অসৎ উপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করছিল। তাকে তৎক্ষণাৎ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা চলবে।”
ত্রিশাল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ খান জানান, “বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত শেষে আরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও নজরুল একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, পরীক্ষার কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং নকলের দায়ে আসাদুজ্জামান ও আহনাফ আবিদ রাফিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে এই ঘটনা নতুন ধরনের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোও অনৈতিক প্রভাবের শিকার হতে পারে।