দাম বাড়ার খবরে চুয়াডাঙ্গার অধিকাংশ পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চুয়াডাঙ্গার শহর ও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার পর থেকে কয়েকটি পাম্পে বিক্রি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। রাতের বেলায় একাধিক পাম্প ঘুরেও জ্বালানি না পেয়ে অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।

শহরের মোজাম্মেল হক ফিলিং স্টেশন, জোয়ার্দার পেট্রোলিয়াম এবং দৌলতদিয়া এলাকার দুটি পাম্পসহ জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। মোজাম্মেল হক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও মিটার চালু রয়েছে। কয়েকজন কর্মচারী সেখানে অবস্থান করলেও গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি করা হচ্ছিল না।

গ্রাহকদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে তেলের মজুত থাকার পরও দাম বাড়ার আগে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বেশি দামে বিক্রির জন্যই তেল মজুত রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তবে পাম্প মালিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শহরের একজন গ্রাহক রাজীব বলেন, তিনি তিনটি পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেলের জন্য তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কোথাও তেল না পাওয়ায় রাতের বেলায় কীভাবে বাড়ি ফিরবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন।

আরেক গ্রাহক সজীবের অভিযোগ, তিনি প্রতিদিন একই সময়ে ওই পাম্প থেকে তেল নেন। কিন্তু এদিন পাম্প বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর ধারণা, দাম বাড়ার খবর পেয়েই তেল বিক্রি বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

ঘটনার কারণে শুধু ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালকরাই নন, অন্যান্য যানবাহনের চালকেরাও সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে রাতের সময় বিকল্প পাম্পে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ সীমিত থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।

বিষয়টি সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ার খবর শুনে কোনো পাম্প বন্ধ রাখা হয়ে থাকলে প্রশাসন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবে।

এদিকে রোববার রাতে সরকার দেশের বাজারে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত ছিল। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানির প্রতিটির দামই এক ধাপে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কথা জানানো হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের দামের ব্যবধানও জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগেই কোনো ফিলিং স্টেশন জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করেছে কি না, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল কি না এবং এর পেছনে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা ছিল কি না—এসব অভিযোগ তদন্তের বিষয়। চুয়াডাঙ্গা প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

এদিকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর জেলার সব ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও চালকদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। পাম্পগুলোতে সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে রাতের বেলায় এমন ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।