দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ; তাই নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফইআরবি চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীর। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজসহ সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, তবে কেবল সংকটের চিত্র তুলে ধরলেই সমস্যার সমাধান হয় না। তাঁর মতে, ব্যবস্থাপনা জনিত ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশোধন করতে হবে; কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও কূপ খননের ঘাটতি। “আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছি,”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নতুন রিগ কেনা, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গভীর ও অগভীর উভয় স্তরে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে ভূতাত্ত্বিক জরিপ, সিসমিক ডাটা সংগ্রহ, কূপ খনন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ধাপসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন—সেই বাস্তবতা মেনে ধাপে ধাপে এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাত অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করে দিকনির্দেশনা নেওয়া হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দায়িত্ব পালনকালে এক পয়সাও দুর্নীতি করেননি। তবু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সপরিবারে কারাভোগ করতে হয়েছে এবং আয়কর মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। “আয়কর মামলা যে কারও বিরুদ্ধে দেওয়া সম্ভব; এতে এমন সব ধারা রয়েছে,”—বলেন তিনি। মামলা পরিচালনায় ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে সম্ভাব্য অগ্রাধিকারগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| অগ্রাধিকার ক্ষেত্র | পরিকল্পিত পদক্ষেপ | প্রত্যাশিত ফলাফল |
|---|---|---|
| নতুন কূপ খনন | আধুনিক রিগ ক্রয় ও স্থাপন | উৎপাদন বৃদ্ধি |
| প্রযুক্তি উন্নয়ন | উন্নত সিসমিক জরিপ ও ডাটা বিশ্লেষণ | সম্ভাব্য ক্ষেত্র শনাক্ত |
| জনবল দক্ষতা | প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত টিম গঠন | কার্যকারিতা বৃদ্ধি |
| নীতি সমন্বয় | কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা | দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমবে, শিল্পখাতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। তবে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সময়, বিনিয়োগ ও ধারাবাহিক নীতি সহায়তা অপরিহার্য।
সব মিলিয়ে, সরকারের লক্ষ্য—গ্যাস খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।



