দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে জনবল সংকট বিরাজ করছে। বিশেষ করে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে ট্রাফিক বিভাগে সার্জেন্ট পদে শূন্যতা থাকায় দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এর আগে গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেন, পুলিশের বিভিন্ন স্তরে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, যা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলছে। তিনি জানান, শুধুমাত্র সার্জেন্ট পদ নয়, কনস্টেবলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে বলে জানা গেছে।
নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য নিম্নে উপস্থাপন করা হলো—
| পদবী | শূন্য পদের সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| সার্জেন্ট | ১৮০ | দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু |
| কনস্টেবল | ২,৭০১ | জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম চলমান |
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নগরায়ণের বিস্তারের কারণে পুলিশ বাহিনীতে জনবল বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বিশেষত সার্জেন্ট পদে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত সদস্য নিয়োগ দেওয়া গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ডিজিটাল ট্রাফিক মনিটরিং, আইন প্রয়োগের আধুনিক কৌশল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব। সে লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে মাঠপর্যায়ে সেবার মান উন্নত হবে এবং নাগরিকরা আরও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।