নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে কেওডালা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ। তবে বাসচালক পালিয়ে গেছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম (৩৫)। তাঁর ছেলের নাম বিপুল। তাঁদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার উত্তর খাগুরা গ্রামে। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি যাত্রীবাহী বাস চলছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে উল্টোপথে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে বিপুল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে তাঁরা গুরুতরভাবে আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছয়ের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় বাস ও ট্রাকের সংশ্লিষ্টতা কিংবা আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত চার থেকে পাঁচজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা ও বন্দর থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটির চালককে আটক করেছে। যাত্রীবাহী বাসটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম বাবা-ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত দুজনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ফলে বিপরীতমুখী যান চলাচল, নির্ধারিত লেন অমান্য করা এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর মতো ঘটনা সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও পথচারীরাও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, নির্ধারিত লেনে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায়ও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। ট্রাকটি কেন উল্টোপথে চলছিল, সংঘর্ষের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট চালকদের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে।
একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সহায়তা এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা প্রতিরোধে তা ভূমিকা রাখতে পারে।


