পটুয়াখালী জেলা শহরের সদর থানাসংলগ্ন এলাকায় ‘বৈশাখী চাঁদা’ না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে জেলা পুলিশের মালিকানাধীন ক্লাব মার্কেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম খোকন মল্লিক (৪৪), যাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হামলার বিবরণ
ভুক্তভোগী খোকন মল্লিক জেলা পুলিশ ক্লাব মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে পাইকারি ও খুচরা মুরগি বিক্রি করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল গাজী (৪৫) এবং সদর উপজেলার মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম (৩৮) তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের অজুহাতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। খোকন মল্লিক এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাঁর দোকানে হানা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, দুপুর ১২টার দিকে বাবুল গাজী ও শামীমসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি দোকানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা খোকন মল্লিককে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন এবং বাবুল গাজী চাপাতি দিয়ে তাঁর হাতে কোপ দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পূর্ববর্তী চাঁদাবাজির অভিযোগ
আহত ব্যবসায়ী খোকন মল্লিক আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্তরা ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে সদর থানাসংলগ্ন পৌর নিউমার্কেটে তাঁর মালিকানাধীন ওষুধের দোকানেও হামলা চালিয়েছিলেন। সেই সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। পরিবার ও নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এবং বাধ্য হয়ে টাকা প্রদান করতেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযুক্ত মৎস্যজীবী দল নেতা বাবুল গাজী তাঁর বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, খোকন মল্লিক বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং তিনি বাজারে মৃত মুরগি বিক্রি করে আসছিলেন। বাজারে এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় খোকন মল্লিক ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন, যার ফলে একটি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশ ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
| বিবরণ | তথ্য |
| ভুক্তভোগী | খোকন মল্লিক (৪৪) |
| পেশা | মুরগি ও ওষুধ ব্যবসায়ী |
| অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তি | বাবুল গাজী ও শামীম (মৎস্যজীবী দল নেতা) |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৪ এপ্রিল ২০২৬; দুপুর ১২:০০ টা |
| ঘটনার স্থান | জেলা পুলিশ ক্লাব মার্কেট, পটুয়াখালী |
| দাবিকৃত চাঁদার পরিমাণ | ৫ লক্ষ টাকা (বৈশাখী খরচ বাবদ) |
| পূর্ববর্তী চাঁদাবাজির পরিমাণ | ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা (ব্যবসায়ীর দাবি অনুযায়ী) |
| বর্তমান অবস্থা | পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
এই হামলার ঘটনার পর পটুয়াখালী শহরের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে পুলিশের মালিকানাধীন একটি মার্কেটে এবং থানার অতি সন্নিকটে দিনের আলোতে এমন রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির এই অভিযোগ পটুয়াখালীর বাণিজ্যিক এলাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানালেও, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সদর থানা পুলিশ মার্কেটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার করেছে।



