চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে একটি মায়া হরিণ জবাইয়ের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্যচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১১ এপ্রিল, উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট বাদামতলী এলাকায়। পরে ১৪ এপ্রিল রাতে সেই দৃশ্যচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যচিত্রে দেখা যায়, জলাশয়ের মধ্যে একটি হরিণকে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পাশে আরও একজন ব্যক্তি হরিণটিকে ধরে রাখতে সহায়তা করছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি কুকুর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং আরও একজন ব্যক্তি পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। দৃশ্যচিত্র ধারণকারী ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করছিলেন দেখে অভিযুক্তদের একজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে তার দিকে তেড়ে আসে বলেও জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মীরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন ছিল, যেখানে মায়া হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বসবাস ছিল। তবে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের পর বনভূমি ধ্বংস ও আবাসস্থল সংকোচনের কারণে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এখনো কিছু বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলে মায়া হরিণের অস্তিত্ব টিকে থাকলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, জবাই করা হরিণটি হয়তো বনের ভেতর থেকে দলছুট হয়ে লোকালয়ে চলে আসে। এ সুযোগেই এটি শিকার করা হয়েছে।
বন বিভাগের মীরসরাই রেঞ্জের একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে তিনজন জড়িত থাকতে পারে এবং তারা স্থানীয় খামার এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন প্রকাশ্য বন্যপ্রাণী হত্যা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| ঘটনার তারিখ |
১১ এপ্রিল |
| স্থান |
টেকেরহাট বাদামতলী, ইছাখালী ইউনিয়ন |
| এলাকা |
মীরসরাই, চট্টগ্রাম |
| ঘটনা |
প্রকাশ্যে মায়া হরিণ জবাই |
| প্রচার |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যচিত্র ছড়িয়ে পড়ে |
| অভিযুক্ত |
তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি |
| তদন্ত অবস্থা |
বন বিভাগ তদন্ত ও অভিযান চালাচ্ছে |
এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশবিদরা মনে করছেন, বনভূমি সুরক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে, অন্যথায় উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য চরম সংকটে পড়বে।