খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছেন, হামলাকারী ও তাদের মদতদাতাদের ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত’ তাড়া করে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ভারতের বিহার রাজ্যে এক জনসভায় মোদি বলেন, ‘বিহারের মাটি থেকে আমি বিশ্বের কাছে বলতে চাই, এই হামলাকারীদের আমরা ছাড়বো না। সারা ভারতবাসী আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা এই সন্ত্রাসীদের এমন শাস্তি দেবো, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।’
কাশ্মীর পুলিশের তথ্যমতে, পেহেলগামের ওই হামলায় অংশ নেওয়া তিনজন সন্দেহভাজনের স্কেচ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে উল্লেখ করা হলেও কীভাবে এ শনাক্তকরণ হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনে আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্র রয়েছে এবং বিষয়টি নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ থেকে ভারতের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার এবং ভারতীয় দূতাবাসের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রধান কূটনীতিককে তলব করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি মিশনে কর্মরত সব প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।
পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর এই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। এটি ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীর উপত্যকায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকে ভারতের সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাব ঘোষণা করেছেন।
পাকিস্তানের জারি করা সিদ্ধান্তগুলো হলো: ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা স্থগিত; ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ; ভারতের বিমানের জন্য আকাশসীমা নিষিদ্ধ; দ্বিপাক্ষিক সব চুক্তি স্থগিত; ওয়াগাহ সীমান্ত তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ও ভারতীয় কূটনীতিকদের সংখ্যা ৩০ জনে সীমাবদ্ধ এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ।
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ‘জলযুদ্ধের উসকানি’ এবং একে ‘অবৈধ ও কাপুরুষোচিত’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
ভারতও পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য সবধরনের ভিসা পরিষেবা স্থগিত করেছে এবং ইতিমধ্যে জারি করা বৈধ ভিসাগুলো বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী রবিবার (২৭ এপ্রিল) থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীর হামলা ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানালেও দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স
খবরওয়ালা/আরডি