খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পর ম্যাচ রেফারিং নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বার্সার ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া। রেফারিদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বার্সেলোনাকে ‘ডাকাতি’র শিকার হতে হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা বার্সেলোনার জন্য ফিরতি লেগটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ মেত্রোপলিতানোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি রাফিনিয়া, তবে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। ম্যাচের শুরুটা বার্সেলোনার জন্য আশাব্যঞ্জক ছিল। মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যে লামিনে ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসের গোলে বার্সা সমতায় ফেরে। তবে ৩১ মিনিটে আদেমোলা লোকমানের গোলে আতলেতিকো আবারও এগিয়ে যায়। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড পেলে বার্সার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে যায়।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| টুর্নামেন্ট | উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ (কোয়ার্টার ফাইনাল) |
| প্রতিপক্ষ | বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদ |
| ভেন্যু | মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়াম (আতলেতিকোর মাঠ) |
| প্রথম লেগ ফলাফল | আতলেতিকো মাদ্রিদ ২-০ বার্সেলোনা |
| দ্বিতীয় লেগ ফলাফল | বার্সেলোনা ২-১ আতলেতিকো মাদ্রিদ |
| এগ্রিগেট ফলাফল | আতলেতিকো ৩-২ বার্সেলোনা (আতলেতিকো সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ) |
| বার্সার গোলদাতা | লামিনে ইয়ামাল, ফেরান তোরেস |
| আতলেতিকোর গোলদাতা | আদেমোলা লোকমান |
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাফিনিয়া রেফারি ক্লেমেন্ত তুরপিনের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, বার্সেলোনাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হারানো হয়েছে। রাফিনিয়া বলেন, “ম্যাচটি পুরোপুরি ডাকাতি করা হয়েছে। রেফারির সিদ্ধান্তগুলো ছিল অবিশ্বাস্য এবং প্রশ্নবিদ্ধ। আতলেতিকো অসংখ্য ফাউল করলেও তিনি যথাযথ কার্ড দেখাননি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রথমার্ধে দানি ওলমোকে ফাউল করার পর পেনাল্টির জোরালো আবেদন থাকলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। কেবল এই ম্যাচই নয়, প্রথম লেগের রেফারি ইস্তভান কোভচসের রেফারিং নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাফিনিয়ার মতে, বার্সেলোনার জয় নিয়ে কর্তৃপক্ষ ভীত কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বার্সেলোনা জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তারা মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ৮টি ছিল গোলমুখে। তবে এরিক গার্সিয়ার লাল কার্ড ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। প্রথম লেগের মতো এই ম্যাচেও বার্সাকে ১০ জন নিয়ে খেলা শেষ করতে হয়।
বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক পরাজয়ের পর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন:
“প্রথমার্ধে আমরা অসাধারণ খেলেছি। দুই লেগের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে সেমিফাইনাল আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। তবে মাঠে খেলোয়াড়দের মানসিকতা দেখে আমি গর্বিত।”
চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কোপা দেল রে থেকে বিদায় নিলেও বার্সেলোনার সামনে লা লিগা জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। হাতে রয়েছে আরও সাতটি ম্যাচ। কোচ হান্সি ফ্লিকের পরবর্তী লক্ষ্য এখন লিগ শিরোপা জয় নিশ্চিত করা। এদিকে, প্রথম লেগের রেফারিং নিয়ে বার্সার করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উয়েফা ইতিমধ্যে খারিজ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রেফারিং বিতর্ক।