পাথর লুটের ঘটনায় ৮০ কোটি টাকা কমিশন প্রশাসনের পকেটে

সিলেটের পাথরকাণ্ডে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লুটপাটে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের প্রায় সব স্তরের কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা ধরা পড়েছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসি ও কোম্পানীগঞ্জের চারজন ইউএনও সরাসরি মদদ দিয়েছেন পাথর লুটে। এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের বিশেষ ইউনিট পিআইও’র দুই কর্মকর্তাও টাকার ভাগ নিয়েছেন। পুলিশকে ট্রাকপ্রতি ১০ হাজার টাকা দেওয়া হতো তিন শর্তে। স্থানীয় বিজিবির সংশ্লিষ্টতার তথ্যও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে ৪ কোটি ঘনফুট পাথর লুটে অন্তত ৮০ কোটি টাকা কমিশন গেছে প্রশাসনের পকেটে।

রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকেও যোগসাজশের প্রমাণ মিলেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩১ জন নেতাকর্মীসহ মোট ৪২ জনের নাম এসেছে, দুদক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। পরিবেশবাদীদের মতে, লুট হওয়া ৪ কোটি ঘনফুট পাথর তুলতে ৮০ হাজার ট্রাক ব্যবহার হয়েছে। প্রতি ট্রাকের দাম পড়েছে ৯১ হাজার টাকা, এর মধ্যে কমিশন হিসেবে অন্তত ১০ হাজার টাকা গেছে প্রশাসন ও পুলিশের হাতে। নৌকাপ্রতি ১ হাজার টাকা আদায় হতো, এর ভাগও ভাগাভাগি করতেন প্রশাসন ও পুলিশ।

পাথর লুটের ঘটনায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) ব্যর্থতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া ও ব্যবসায়ী-রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তাও দায়ী করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের চারজন ইউএনওও দায়ী হয়েছেন-আজিজুন্নাহার, আবুল হাসনাত, ঊমী রায় ও আবিদা সুলতানা।

এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কার্যকর পদক্ষেপ নেননি, ফলে দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ পেয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা কমিশন নিয়ে লুটে সহযোগিতা করেছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিজিবি সদস্যদের নৌকাপ্রতি টাকা নেওয়ার অভিযোগও এসেছে। তবে বিজিবি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ ১৯ জন,  জামায়াতের ৯ জন এবং এনসিপির ৪ জন নেতার নাম এসেছে। এ ছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী ১১ জনের নামও তদন্তে পাওয়া গেছে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সদর দপ্তরে প্রাথমিক তথ্য পাঠানো হয়েছে এবং অনুমতি পেলে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চালানো হবে। জেলা প্রশাসনও ১৩৭ জনের নামসহ একটি তালিকা ও ১০ দফা সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে সতর্কতার সঙ্গে, যাতে প্রকৃত দোষীদের নামই আসে। একই সঙ্গে সীমান্তে বিজিবির নতুন ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ফাঁড়ি, ক্যাম্প ও চেকপোস্ট বসানোর প্রক্রিয়াও চলছে।

সূত্র: কালবেলা

খবরওয়ালা/টিএসএন

 

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।