ফরাসি আল্পসে প্রাণ কেড়ে নিল তুষারধস

ফরাসি আল্পস পর্বতমালায় ফের প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে তুষারধস। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে পৃথক পৃথক স্থানে ঘটে যাওয়া তুষারধসে অন্তত দুজন স্কিয়ার নিহত হয়েছেন। এর আগের সপ্তাহান্তেও অফ-পিস্ট স্কি ট্যুরিংয়ে অংশ নিতে গিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু ঘটে। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনা ইউরোপের আল্পস অঞ্চলে চলতি শীত মৌসুমে পাহাড়ি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেনোবলের কাছাকাছি সাঁ-আগ্নেস এলাকায় তুষারধসে ৩৮ বছর বয়সী এক স্কিয়ার ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অপর স্কিয়ার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে নিজেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন এবং পরে উদ্ধারকারীদের সহায়তায় অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। পাহাড়ি এলাকায় তুষারস্তরের অস্থিতিশীলতার কারণে ওই অঞ্চলে সেদিন ঝুঁকির মাত্রা ছিল বেশি।

অন্যদিকে, মনজেনেভর গ্রামের নিকটবর্তী একটি অফ-পিস্ট এলাকায় স্কি করার সময় হঠাৎ বিশাল তুষারধস নেমে আসে। এতে ত্রিশের কোঠায় এক স্কিয়ার চাপা পড়ে প্রাণ হারান। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেকজন সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের আঘাত ছাড়াই বেঁচে যান। উদ্ধারকারীরা জানান, অফ-পিস্ট এলাকায় বরফের স্তর তুলনামূলক বেশি নরম ও অনিয়মিত হওয়ায় সামান্য কম্পন বা চাপেও বড় আকারের তুষারধস নামতে পারে।

এর আগে শনিবার ফরাসি আল্পসের সর্বোচ্চ গ্রাম হিসেবে পরিচিত সাঁ-ভেরাঁর কাছে পৃথক একটি ঘটনায় অফ-পিস্ট স্কি ট্যুরিংয়ে থাকা দুজন স্কিয়ার তুষারধসে নিহত হন। ওই ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পাহাড়ি রুটে সতর্কতা জারি করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রার হঠাৎ ওঠানামা, নতুন তুষারপাত এবং প্রবল বাতাস মিলিয়ে তুষারের স্তরগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বরফের নিচে থাকা পুরোনো স্তরের সঙ্গে নতুন স্তরের সংযোগ দুর্বল থাকে, যা তুষারধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। অফ-পিস্ট স্কিয়িংয়ের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ সেখানে বরফের স্থিতিশীলতা নিয়মিত পরীক্ষা বা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না।

চলতি শীত মৌসুমে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি ও অস্ট্রিয়ার আল্পস অঞ্চলে তুষারধসে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পাহাড়ি উদ্ধার সংস্থাগুলো পর্যটক ও ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম বহন, আবহাওয়া ও ঝুঁকির পূর্বাভাস যাচাই এবং প্রশিক্ষিত গাইড ছাড়া বিপজ্জনক রুটে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। একই সঙ্গে তুষারধস ঘটলে দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে জরুরি সেবাগুলোকে আরও প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলতি মৌসুমে আল্পস অঞ্চলে তুষারধসে প্রাণহানির সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

দেশ নিহত স্কিয়ারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য অঞ্চল
ফ্রান্স ৮ জন ফরাসি আল্পস, সাঁ-ভেরাঁ, সাঁ-আগ্নেস
সুইজারল্যান্ড ৫ জন ভ্যালাইস, গ্রাউবুন্দেন
ইতালি ৪ জন ডলোমাইটস সংলগ্ন এলাকা
অস্ট্রিয়া ৩ জন টাইরোল ও আশপাশের অঞ্চল
মোট ২০ জন আল্পস পর্বতমালা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শীত মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আল্পস অঞ্চলে তুষারধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপেক্ষা করে রোমাঞ্চের খোঁজে বিপজ্জনক অফ-পিস্ট এলাকায় যাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।