খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সোমালিয়া ও সৌদি আরব প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা বিস্তারের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। সোমবার সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো আরও সুসংহত হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক খাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়াল্লিম ফিকি এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আনুষ্ঠানিকভাবে দলিলে স্বাক্ষর করেন।
সোমালিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৌশলগত অংশীদারির মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা এবং লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় জলদস্যুতা, অস্ত্র ও মানব পাচার, এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর দুই দেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চুক্তির আওতায় যৌথ প্রশিক্ষণ, তথ্য ও গোয়েন্দা বিনিময়, সীমান্ত ও উপকূলীয় নজরদারি শক্তিশালীকরণ, এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হর্ন অব আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জোরালো করেছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব লোহিত সাগর ঘিরে নিরাপত্তা স্থাপত্য শক্তিশালী করতে অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
সোমালিয়া দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সীমান্ত ও আকাশসীমা সুরক্ষার সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। এ কারণে দেশটি মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা, নজরদারি সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সমঝোতার ফলে সোমালিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা খাত সংস্কারে বাস্তব সহায়তা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কেবল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাই নয়, বরং হর্ন অব আফ্রিকা ও লোহিত সাগর অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। আঞ্চলিক শান্তি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়ে এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
চুক্তির সম্ভাব্য প্রধান ক্ষেত্রসমূহ
| ক্ষেত্র | সহযোগিতার ধরন | প্রত্যাশিত ফল |
|---|---|---|
| যৌথ প্রশিক্ষণ | সামরিক ও বিশেষায়িত ইউনিট প্রশিক্ষণ | বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি |
| গোয়েন্দা বিনিময় | সন্ত্রাস ও পাচার সংক্রান্ত তথ্য আদান–প্রদান | আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধ |
| উপকূলীয় নিরাপত্তা | নৌ টহল ও নজরদারি শক্তিশালীকরণ | জলদস্যুতা ও পাচার রোধ |
| প্রযুক্তিগত সহায়তা | নজরদারি সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তি | আকাশসীমা ও সীমান্ত সুরক্ষা উন্নয়ন |
| সক্ষমতা উন্নয়ন | অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সহায়তা | দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা শক্তিশালীকরণ |