তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়েও এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের নিশিন শহরের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে স্বর্ণপদকের লড়াই নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। ফলে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল এখন শুধু ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়বে।
বৃষ্টির কারণে মাঠের আউটফিল্ড ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শুরু করা সম্ভব হয়নি। দেরিতে খেলা শুরু হওয়ায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৩ ওভার করা হয়। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে নেয়। হাতে তখনও ছিল ৯ বল।
সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে প্রথম দিকেই দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে তারা। মাত্র ২১ রানের মধ্যে তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ১৭ রান করে ফিরলেও পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক লিটন কুমার দাস বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি। লিটন করেন মাত্র ২ রান।
চতুর্থ উইকেটে সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১৯ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫ রানে ৪ উইকেট। তখন বড় সংগ্রহের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।
সেই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৩০ বলে ৫৩ রানের ঝোড়ো জুটি বাংলাদেশকে আবার লড়াইয়ে ফেরায়। দ্রুত রান তুলে তারা দলকে শতরানের গণ্ডি পার করান। হৃদয় ছিলেন জুটির মূল চালিকাশক্তি। মাত্র ২৫ বলে ৪২ রান করেন তিনি।
তবে ইনিংসের শেষ দিকে আবারও ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের স্পিনার সুফিয়ান মুকিম পরপর দুই বলে হৃদয় ও মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে দেন। ফলে শেষ ওভারের দিকে বাংলাদেশের রান তোলার গতি কমে যায়। শেখ মাহেদীর ব্যাট থেকে আসা একটি চার শেষদিকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ১৩ ওভার শেষে ১১১ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম ২৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন।
১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানও শুরুতে স্বস্তিতে ছিল না। ৫৩ রানের মধ্যেই চারটি উইকেট হারিয়ে তারাও চাপে পড়ে যায়। বাংলাদেশের বোলাররা সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব ও উসমান খানকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করেন।
কিন্তু পঞ্চম উইকেটে আবদুল সামাদ ও হাসান নওয়াজের জুটি বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৫৯ রান যোগ করে পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। মাত্র ১৫ বলে ৩০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন সামাদ। অন্য প্রান্তে হাসান নওয়াজ ২২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে শেখ মাহেদী ১৭ রান দিয়ে এবং মুস্তাফিজুর রহমান ৪১ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন।
ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারালেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়নি। এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৩ ওভারে ১১১/৭ — তাওহিদ হৃদয় ৪২, সাইফ হাসান ১৯, তানজিদ হাসান তামিম ১৭; সুফিয়ান মুকিম ৩/২৬।
পাকিস্তান: ১১.৩ ওভারে ১১২/৪ — আবদুল সামাদ ৩০*, হাসান নওয়াজ ২৭*, উসমান খান ১৪; শেখ মাহেদী ১/১৭, মুস্তাফিজুর রহমান ১/৪১।


