খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে মাঘ ১৪৩২ | ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত লড়াই ভারত বনাম পাকিস্তান। মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে যা রূপ নেয় দুই দেশের মর্যাদা ও রাজনীতির লড়াইয়ে। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার ম্যাচটি নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। তবে যে কোনো মূল্যে এই ম্যাচটি মাঠে নামাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে আইসিসি এখন সরাসরি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সরকার তাদের দলকে এই ম্যাচে অংশগ্রহণ না করার নির্দেশ দেয়। মূলত এবারের টুর্নামেন্টে ভারত সহ-আয়োজক হওয়ায় এবং বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই জটিলতার শুরু। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
আইসিসির কেন এই ম্যাচটি আয়োজনে এত মরিয়া, তার প্রধান কারণ হলো বাণিজ্যিক স্বার্থ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ এবং বিজ্ঞাপনের বাজারমূল্যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বাতিল হলে আইসিসির অন্তত ৬১৫০ কোটি টাকার (প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার) বিশাল আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব।
এক নজরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| নির্ধারিত তারিখ ও ভেন্যু | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কলম্বো, শ্রীলঙ্কা। |
| সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি | প্রায় ৬১৫০ কোটি টাকা (৫০০ মিলিয়ন ডলার)। |
| পিসিবির বর্তমান অবস্থান | সরকারি নির্দেশনায় ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত। |
| বিসিসিআই-এর অবস্থান | ম্যাচ খেলতে পূর্ণ প্রস্তুতি (অধিনায়কের ভাষ্যমতে)। |
| টুর্নামেন্টে প্রভাব | না খেললে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ২ পয়েন্ট হারাবে। |
| দ্বিপক্ষীয় সিরিজের অবস্থা | ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নেই। |
মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও পাকিস্তান ক্রিকেট দল এক কঠিন সমীকরণের মুখে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে পাকিস্তান উড়ন্ত সূচনা করেছে। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ না নিলে আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী ভারতকে জয়ী ঘোষণা করবে। এতে পাকিস্তান কেবল মূল্যবান ২ পয়েন্টই হারাবে না, বরং টুর্নামেন্টের নেট রান রেটেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি তাদের সেমিফাইনাল বা সুপার ফোর-এর পথকে অত্যন্ত বন্ধুর করে তুলবে।
অন্যদিকে, ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁর দল মাঠের লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কলম্বোতে যেতে ইচ্ছুক। আইসিসি বর্তমানে সংঘাতের পথে না হেঁটে সমঝোতার পথে এগোতে চাইছে। তারা পিসিবিকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে এই ম্যাচটির গুরুত্ব কতখানি। ক্রিকেট বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের চোখ এখন কলম্বোর দিকে; রাজনৈতিক দেওয়াল ভেঙে বল শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।