মোহাম্মদপুরে নৃশংস জোড়া খুনে প্রশিক্ষিত খুনির সন্দেহ

মোহাম্মদপুরে ভয়াবহ জোড়া খুন: পুলিশের ধারণা প্রশিক্ষিত খুনি কিংবা অতিরিক্ত ক্ষোভে উন্মত্ত সাইকোপ্যাথ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৪)-এর নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো দেশ। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখে তদন্ত কর্মকর্তারাও বিস্মিত। লাশের সুরতহাল, আঘাতের ধরন এবং হত্যাকারীর পালানোর কৌশল দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—ঘাতক হয় প্রশিক্ষিত কোনো কিলার, নয়তো অতিরিক্ত ক্ষোভে উন্মত্ত কোনো সাইকোপ্যাথ

অপ্রকাশ্য নৃশংসতা: সুরতহালে উঠে এল শিউরে ওঠা তথ্য

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর কোনো হত্যাকাণ্ডে দেখা যায়নি। নিহত লায়লা আফরোজের শরীরে মোট ৩০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে—যার অনেকগুলোই গভীর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত।

নীচের টেবিলে সুরতহালের উল্লেখযোগ্য আঘাতগুলো তুলে ধরা হলো—

স্থান আঘাতের সংখ্যা
বাম গাল
থুতনি
গলার নিচে
বাম হাত
দুই হাতের কব্জি
বুকের বাম পাশ
পেটের বাম পাশ
তলপেট

অন্যদিকে, কিশোরী নাফিসার শরীরেও গলা, বুক এবং দুই পাশে ৬টি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের মতে, দুজনের মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ

দুটি অস্ত্র উদ্ধার: একটির ব্যবহার প্রশিক্ষণের ইঙ্গিত

ঘটনাস্থল থেকে দুই ধরনের ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ—
১) সাধারণ সবজি কাটার ছুরি
২) বিশেষ ধরনের ‘সুইচ গিয়ার’ অস্ত্র, যা আঙুলে আটকানো যায় এবং আঘাতের সময় হাত থেকে পিছলে যায় না।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, দ্বিতীয় অস্ত্রটি সাধারণত ঘরের কাজে ব্যবহৃত হয় না। এটি ঘাতকের পূর্ব পরিকল্পনা ও দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়।

ঠান্ডা মাথায় পালিয়ে যাওয়া: ঘাতকের আচরণে বিস্মিত পুলিশ

তদন্তে আরও জানা গেছে—হত্যাকাণ্ডের পর খুনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাথরুমে গোসল করে, নিজের রক্তমাখা পোশাক খুলে নিহত মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পুলিশের মতে, এমন ধীরস্থির আচরণ সাধারণ খুনির নয়।

এই ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। তিনি এখনো পলাতক।

পুলিশের তদন্ত: পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান—

“নৃশংসতা দেখে মনে হচ্ছে ঘাতক প্রশিক্ষিত হতে পারে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ অস্ত্র ব্যবহার এবং স্কুল ড্রেস পরে পালানো—এসবই ইঙ্গিত দেয়, এটি পরিকল্পিত হতে পারে।”

পুলিশ বলছে, পলাতক গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা গেলে এই নৃশংস জোড়া খুনের প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার হবে।

নাটোরে দাফন সম্পন্ন

মা ও মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় সোমবার রাতেই।
আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর নাটোর শহরের গাড়ীখানা কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজায় অংশ নেন স্বজন ও স্থানীয় হাজারো মানুষ। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।

Tags :

নিউজ ডেস্ক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।