খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১০ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম–কাহালু) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ধরনের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যা বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন থানার এসআই মো. মেহেদী হাসান।
জিডি অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে মোশারফ হোসেন তাঁর বগুড়ার বাসায় অবস্থানকালে একটি বিদেশি নম্বর—
+১ (৯১৬) ৪৭৭–৫৬৬২
—থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসে।
বার্তায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অনৈতিক সুবিধা দাবি করে এবং জানান—
দাবি না মানলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করবে।
এই হুমকিতে সোয়া কোটি টাকার চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কাহালু উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন মোশারফ হোসেনের পক্ষে জিডি করেন। জিডিতে বলা হয়েছে—
মোশারফ হোসেন বগুড়ার পরিচিত ও সুনামধন্য রাজনৈতিক নেতা
বগুড়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য
তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
নির্বাচনের আগে তাঁর সুনাম নষ্ট করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সক্রিয় হয়েছে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হুমকিদাতা | অজ্ঞাত বিদেশি নম্বর +১(৯১৬)৪৭৭–৫৬৬২ |
| হুমকির ধরন | এআই দিয়ে অশ্লীল ছবি তৈরি করে ভাইরাল করার হুমকি |
| দাবি | অনৈতিক সুবিধা ও অর্থ (প্রায় সোয়া কোটি টাকা) |
| ভুক্তভোগী | বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন |
| পদবি | ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া জেলা বিএনপি |
| অবস্থান | বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী |
| আইনগত ব্যবস্থা | বগুড়া সদর থানায় জিডি |
ঘটনা প্রসঙ্গে ‘দৈনিক করতোয়া’কে মোশারফ হোসেন বলেন—
“নির্বাচন ঘিরে নানামুখী ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাকে। ধানের শীষের পক্ষে ভোটারদের উৎসাহ দেখে একটি মহল ভীত হয়ে উঠেছে। ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে তারা অপতথ্য ছড়াচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন—
“এআই ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে আমার সুনাম নষ্ট ও নির্বাচনী পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এটি পরিষ্কার চাঁদাবাজি ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের লক্ষ্য করে ডিপফেক ভিডিও, এআই–নির্মিত ছবি, ভুয়া অডিও—এসব প্রযুক্তিনির্ভর অপপ্রচারের পরিমাণ বেড়ে যায়।
এ ধরনের ডিজিটাল ব্ল্যাকমেল শুধু ব্যক্তিকে নয়, নির্বাচনী পরিবেশকেও অস্থিতিশীল করে। মোশারফ হোসেনের ক্ষেত্রেও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিডিতে উল্লেখ আছে—
ভুয়া আইডি থেকে অপপ্রচার দীর্ঘদিন ধরে চলমান
উদ্দেশ্য একটাই—তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করা
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, অপপ্রচারের তত রূপ বদলাচ্ছে
বগুড়া-৪ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা মোশারফ হোসেনকে কেন্দ্র করে এআই–ভিত্তিক ব্ল্যাকমেলের এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তুলেছে।
হুমকি দাতারা এখনো শনাক্ত না হলেও পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের ডিজিটাল অপতৎপরতা যে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে, তা বলাই যায়।
আপনি চাইলে এই খবরের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, অথবা ক্লিকবেইট শিরোনামসহ আরেকটি ভার্সনও তৈরি করে দিতে পারি।