প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষ যুক্তরাজ্যে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। আবেদন মঞ্জুর হলে প্রথমে পাঁচ বছরের জন্য সুরক্ষাভিত্তিক থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাস বা ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর)’ মঞ্জুর হয়। আইএলআর পাওয়ার ১২ মাস পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে ব্রিটিশ পাসপোর্ট পাওয়া যায় এবং আশ্রয়প্রার্থী বিশ্বের অন্যান্য দেশে ভ্রমণ ও যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার অধিকার পান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তার দেশে ফেরা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি কোন প্রক্রিয়ায় ফিরবেন, তা নিশ্চিত নয়।
ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, ইংল্যান্ডের অভিবাসন ও মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয় মানে নিরাপত্তাহীনতা থেকে সুরক্ষা পাওয়া। আইএলআর থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে ফিরে গেলে যুক্তরাজ্য হোম অফিস ধারণা করতে পারে যে আর কোনো ঝুঁকি নেই। এতে রিফিউজি স্ট্যাটাস ও আইএলআর উভয়ই ঝুঁকিতে পড়ে।
সাধারণ আইএলআরপ্রাপ্তদের জন্য দুই বছরের বেশি যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থান করলে আইএলআর বাতিল হতে পারে। আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার জন্য নতুন ভিসা প্রয়োজন হতে পারে।
রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্য হোম অফিস একটি ‘রিফিউজি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ দেয়, যা ব্যবহার করে তারা নিজের দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে যেতে পারেন। তবে যে দেশে নির্যাতনের আশঙ্কা দেখিয়ে আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, সেখানে এই নথি ব্যবহার করা যায় না।
যদি আশ্রয়প্রাপ্ত বাংলাদেশি নিজের দেশে যেতে চান, তাহলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা সরকারি ভ্রমণ পারমিট ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এতে গুরুতর আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়। হোম অফিস ধরে নিতে পারে যে আশ্রয়ের প্রয়োজন আর নেই। এই কারণে রিফিউজি স্ট্যাটাস ও আইএলআর হারানোর সম্ভাবনা থাকে।
নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে হোম অফিসে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হয়। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রমাণপত্র জারি হয় এবং সেই তারিখ থেকে কার্যকর হয়। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকার থাকে না। নতুন ভিসা বা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন



