খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক দিনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—বিরাট কোহলির ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। প্রায় দেড় দশক পর তিনি নামতে যাচ্ছেন বিজয় হাজারে ট্রফির মাঠে। ক্রিকেট ভক্তদের কাছে এটি চমক, নির্বাচকদের কাছে এটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সফলতা, আর কোহলির কাছে এটি বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের গল্প।
কোহলির মতো আন্তর্জাতিক তারকা সাধারণত ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব কমই খেলেন। ব্যস্ত সূচি, বায়ো-বাবল, আন্তর্জাতিক দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তাদের সময় থাকে না। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে সম্প্রতি দেখা গেছে জুনিয়র অনেক খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেট এড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে গম্ভীর সিদ্ধান্ত নেন—জাতীয় দলে থাকতে চাইলে ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলতে হবে।
রোহিত শর্মা এই নীতি প্রথমে গ্রহণ করেন। তিনি জানিয়ে দেন তিনি বিজয় হাজারে খেলবেন। কিন্তু কোহলির সিদ্ধান্ত ছিল ভিন্ন। তিনি নির্বাচকদের জানান, তিনি বিশ্রাম নিতে চান এবং এই টুর্নামেন্টে তার খেলার আগ্রহ নেই। কিন্তু তখনই প্রশ্ন উঠল—রোহিত খেললে কোহলি কেন খেলবেন না?
এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় নির্বাচক কমিটির সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সবার সিদ্ধান্ত—দলের অনুশাসন রক্ষায় কোহলিকেও খেলতেই হবে। ডিডিসিএ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় কোহলি ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।
কোহলি সর্বশেষ বিজয় হাজারেতে খেলেছিলেন ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে। তখন তিনি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের উঠতি প্রতিভা। এর মাঝে তার ক্যারিয়ারে এসেছে টেস্ট ট্রিপল সেঞ্চুরি, আইপিএলে রেকর্ড রান, একাধিকবার আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার হওয়ার কৃতিত্ব। কিন্তু মাঝখানে ফিরে আসেননি ঘরোয়া ক্রিকেটে।
বিজয় হাজারেতে তার রেকর্ডও ঈর্ষণীয়—১৪ ম্যাচে ৬৮.২৫ গড়, চার সেঞ্চুরি, তিন ফিফটি। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১০৬.০৮, যা ঘরোয়া ক্রিকেটের মানদণ্ডে অসাধারণ।
এবার দিল্লি ‘ডি’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ গুজরাট, সৌরাষ্ট্র, সার্ভিসেস, রেলওয়েজ, ওডিশা, হরিয়ানা ও অন্ধ্র। প্রথম ম্যাচ ২৪ ডিসেম্বর অন্ধ্রের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষ হবে ৬ ডিসেম্বর, তাই কোহলি পর্যাপ্ত সময় পাবেন অনুশীলনের জন্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এই সিদ্ধান্ত ভারতের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিনিয়ররা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললে টুর্নামেন্টের মান বাড়ে, দর্শক বাড়ে, আর তরুণ ক্রিকেটারদের শেখার সুযোগ বাড়ে। অন্যদিকে এটি দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার একটি বার্তা।
সবমিলিয়ে বলা যায়—কোহলির ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরা শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনার অংশ।