খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন সরকারি নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যৌথ অভিযানে ১ হাজার ৬৯৮ কার্টন অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে আগত ‘এয়ার আরাবিয়া’র একটি ফ্লাইটের তিন জন যাত্রী এবং বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ সিগারেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এই সিগারেটের আনুমানিক বাজারভিত্তিক সরকারি রাজস্ব মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা (প্রায় ৩৪ লাখ টাকা)।
রবিবার (৩১ মে) রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক অ্যারাইভাল হলের ৩ নম্বর গেটের সন্নিকটে এই বিশেষ যৌথ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে বিমানবন্দর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিরেক্টরেট, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) এবং বিমানবন্দর কাস্টমস শাখা যৌথভাবে অংশ নেয়।
বিমানবন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, শারজাহ থেকে উড্ডয়ন করে চট্টগ্রামে অবতরণ করা এয়ার আরাবিয়ার ‘জি৯-৫২০’ ফ্লাইটের তিন জন সন্দেহভাজন যাত্রীর ব্যাগেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তাদের লাগেজ থেকে ১ হাজার ২ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি, একই সময়ে অ্যারাইভাল হলের লাগেজ বেল্ট থেকে কোনো দাবিদার বা মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৬৯৬ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে যৌথ অভিযানে মোট ১ হাজার ৬৯৮ কার্টন সিগারেট জব্দ করা সম্ভব হয়। উদ্ধারকৃত এসব সিগারেটের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ও নামি ব্র্যান্ড ‘মন্ড’ (Mond) এবং ‘ম্যানচেস্টার’ (Manchester) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবৈধ উপায়ে কাস্টমস ফাঁকি দিয়ে এই বিদেশি সিগারেট বহনে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিন জন যাত্রীকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামাল সুমন, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তালুকদার এবং একই জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন তালুকদার।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জব্দকৃত অবৈধ সিগারেটসমূহ কাস্টমসের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ‘ডিপার্টমেন্টাল মেমোরান্ডা’ (ডিএম) মূলে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়েছে এবং এগুলো চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিরাপদ হেফাজতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আটককৃত তিন যাত্রীকে কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স এবং কাস্টমস শাখা কর্তৃক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে আমদানি নিষিদ্ধ বিভিন্ন পণ্যের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করা এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে বিমানবন্দর কাস্টমস, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ নজরদারি ও সর্তকতা অব্যাহত রেখেছে।
অভিযানের সার্বিক তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিবরণী | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও উপাত্ত |
| অভিযানের স্থান | শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম |
| অভিযানের সময় | রবিবার (৩১ মে) রাত |
| সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট | এয়ার আরাবিয়া (জি৯-৫২০), শারজাহ থেকে আগত |
| যৌথ পরিচালনাকারী সংস্থাসমূহ | এনএসআই, ডিজিএফআই, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, এভসেক ও বিমানবন্দর কাস্টমস |
| জব্দকৃত সিগারেটের পরিমাণ | মোট ১,৬৯৮ কার্টন (যাত্রীদের থেকে ১,০০২ এবং বেল্ট থেকে ৬৯৬ কার্টন) |
| সিগারেটের ব্র্যান্ডসমূহ | মন্ড (Mond) এবং ম্যানচেস্টার (Manchester) |
| আনুমানিক রাজস্ব মূল্য | ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা (প্রায় ৩৪ লাখ টাকা) |
| আটককৃত যাত্রীদের পরিচয় |
১. মো. মোস্তফা কামাল সুমন (রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর) ২. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তালুকদার (হাটহাজারী, চট্টগ্রাম) ৩. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন তালুকদার (রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম) |
| আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা | পণ্যসমূহ কাস্টমস হেফাজতে জব্দ; যাত্রীদের মৌখিক সতর্কতায় মুক্তি |