খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় একটি খালের তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে ফারিয়া আক্তার নামের আট বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল খালের কচুরিপানার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার ১ নম্বর বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল বাসস্ট্যান্ড ব্রিজসংলগ্ন তিতাস নদীর শাখা লক্ষার খালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফারিয়া আক্তার সংচাইল গ্রামের ‘প্রভাতী ফিসারিজ’-এর কর্মচারী মো. শাহাদাত হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, ফারিয়া আক্তার তার ১১ বছর বয়সী বড় বোন সামিরা এবং আরও কয়েকজন শিশুর সাথে লক্ষার খালে গোসল করতে নেমেছিল। গোসলে নামা শিশুরা সাঁতার জানলেও ওই সময় খালের পানির স্রোত ছিল অত্যন্ত প্রখর। গোসলের একপর্যায়ে হঠাৎ তীব্র স্রোতের টানে ফারিয়া ভেসে যেতে শুরু করে। তা দেখে বড় বোন সামিরা তাকে আঁকড়ে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।
দুই বোনের চিৎকার শুনে সংচাইল গ্রামের এক প্রতিবেশী নারী দ্রুত এগিয়ে আসেন। তিনি সামিরাকে টেনে পানি থেকে তুলতে সক্ষম হলেও, ততক্ষণে ফারিয়া তার বোনের হাত থেকে ছুটে গিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় খালের বিভিন্ন অংশে খোঁজাখুঁজি করেও ফারিয়ার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
১ নম্বর বড়শালঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল সরকার এবং মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, খালের ওই অংশে পানি প্রবাহের তীব্র গতি ছিল। এর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের আটকে রাখা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে বিকেল ৩টার দিকে কচুরিপানার নিচ থেকে ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার সার্বিক বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য |
| নিহত শিশুর নাম ও বয়স | ফারিয়া আক্তার (৮ বছর) |
| পিতার নাম ও পেশা | মো. শাহাদাত হোসেন (প্রভাতী ফিসারিজের কর্মচারী) |
| দুর্ঘটনার স্থান | সংচাইল বাসস্ট্যান্ড ব্রিজসংলগ্ন লক্ষার খাল (তিতাস নদীর শাখা), ১ নম্বর বড়শালঘর ইউনিয়ন, দেবীদ্বার, কুমিল্লা |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১ জুন, সোমবার; দুপুর ১২টা (আনুমানিক) |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | বিকেল ৩টা (আনুমানিক ৩ ঘণ্টা পর) |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিস |
| উদ্ধার অভিযানের সময়কাল | প্রায় ২ ঘণ্টা |
| দুর্ঘটনার মূল কারণ | খালের তীব্র স্রোত এবং কচুরিপানার প্রতিবন্ধকতা |
মরদেহ উদ্ধারের পর শিশুটিকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে আনুষ্ঠানিক মৃত ঘোষণা করেন।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই বোন একসাথে গোসল করতে নেমে স্রোতের মুখে পড়েছিল। স্থানীয়রা একজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও অন্যজনকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।