ঝালকাঠির রাজাপুরে নুরে আলম নামে এক যুবককে ভাড়া বাসা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চার দিন পর মামলার প্রধান আসামি মো. শাহজাহান হাওলাদারকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করার পর পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মধ্য কবুতরখালী এলাকা থেকে শাহজাহান হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। রাজাপুর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেফতারের পর তাকে রাজাপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নুরে আলমকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গভীর রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহটি কাঠিপাড়া এলাকার কতবেলতলার একটি নালার মধ্যে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরদিন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল ও মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি ঘিরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত নুরে আলমের ছোট ভাই মো. মাহে আলম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে মো. শাহজাহান হাওলাদারকে প্রধান আসামি করা হয়।
শাহজাহান হাওলাদার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার মৃত আব্দুল ছত্তার হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রধান আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া উপজেলার মধ্য কবুতরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। অভিযানে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার শাহজাহান হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কাউখালী থানায় একজন পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, নুরে আলম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে কী কারণে নুরে আলমকে ভাড়া বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, কারা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো পূর্ববিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
একজন মানুষকে রাতের অন্ধকারে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা এবং পরে নির্জন স্থানে মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধান আসামির গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আদালতে অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।


