আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া সড়কের বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর অংশ থেকে হাতবোমা সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করেছে শিল্প পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউ এইজ কারখানার সামনে থেকে বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে সেগুলো প্রকৃতপক্ষে হাতবোমা কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ ফয়সাল ইসলাম তিনটি বস্তু উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে হাতবোমা সদৃশ বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কারা সেগুলো সেখানে নিয়ে এসেছিল কিংবা রেখে গিয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিল্প পুলিশের প্রায় ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁদের পরিচয় ও আহত হওয়ার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শনিবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, নয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল ৮টার পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুরের দিকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে এআর জিন্স ও কন্টিনেন্টাল কারখানার বিভিন্ন কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এআর জিন্সের পক্ষ থেকেও ছুটি দেওয়া হয়।
চলমান বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন কার্যক্রমে। আন্দোলনের কারণে এআর জিন্স, কন্টিনেন্টাল, নাঈম নীটওয়্যার, নিউ এইজ, নীট এশিয়া ও স্টার্লিং ক্রিয়েশনসহ অন্তত ২৬টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিক্ষোভের কারণ, শ্রমিকদের নির্দিষ্ট দাবিদাওয়া এবং হাতবোমা সদৃশ বস্তুগুলো কারা সেখানে রেখেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ভাঙচুর, সংঘর্ষ এবং সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলোর কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।


