খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের (৩৮) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে সামাজিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় বাদ জুমা তুহিনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বজনেরা তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন শত শত শোকাহত মানুষ।
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর তুহিনের দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে কাউকে কুপিয়ে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তুহিন পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে একজন। তারা সবাই এলাকার বাইরে থাকেন, কেউই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তুহিন ছিলেন ভদ্র, শান্ত স্বভাবের ছেলে। নিয়মিত মা-বাবার খোঁজখবর নিতেন, তাদের দেখাশোনা করতেন। তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘তুহিন সাংবাদিক হিসেবে অল্প সময়েই সুনাম অর্জন করেছিলেন। মা-বাবার সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি। এখন তার মা-বাবা, স্ত্রী মুক্তা আক্তার ও দুই শিশুসন্তান—তৌকির (৭) ও ফাহিম (৩)—ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়বেন। সরকার যদি পরিবারটিকে সহায়তা করে, সেটি হবে মানবিক উদ্যোগ।’
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর শহরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করছিল। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন তুহিন। বিষয়টি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাকেও ধাওয়া করে এবং কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
তুহিন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মো. হাসান জামাল ও সাবিহা খাতুন দম্পতির ছেলে। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পরিবার ও সহকর্মীদের পাশাপাশি সাংবাদিক মহলে তার মৃত্যু গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
খবরওয়ালা/এন