নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ইউনিয়নের কাঞ্চনবাজার এলাকায় ব্র্যাকের একটি শাখা কার্যালয় থেকে দাউদুল ইসলাম তুষার নামে এক কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে কার্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দাউদুল ইসলাম তুষারের বাড়ি ফেনী জেলায়। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে তিনি কাঞ্চনবাজারের ওই শাখা কার্যালয়ে নিরীক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কর্মসূত্রে তিনি সুবর্ণচরে অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে কার্যালয় খোলার জন্য প্রয়োজনীয় চাবি আনতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একটি কক্ষের ভেতরে তুষারকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে সুবর্ণচর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পাশাপাশি কার্যালয়ের পরিস্থিতি, মরদেহ উদ্ধারের স্থান এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
সুবর্ণচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল হাসান জানান, ব্র্যাক কার্যালয় থেকে এক কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তবে তুষারের মৃত্যুর পেছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বিশ্লেষণের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কাঞ্চনবাজার ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তুষার সেখানে অল্প সময় আগে কর্মজীবন শুরু করায় তার পরিচিতজনদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো ধরনের অনুমান বা সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় কার্যালয়ের ভেতরের পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য তদন্তের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরবর্তী তথ্যের ভিত্তিতেই দাউদুল ইসলাম তুষারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

