খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নোয়াখালীর আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আদালত নতুন করে আগামী ২৯ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মামলার রায়কে ঘিরে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ছিল তীব্র প্রত্যাশা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালত এজলাসে বসেই পূর্বনির্ধারিত রায় ঘোষণার তারিখ পরিবর্তন করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণার কথা থাকলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় বিবেচনায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের কন্যা। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
অভিযুক্ত আব্দুর রহিম রনি (৩২) একই এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে এবং অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা অবস্থায় ছিল, যা পুরো এলাকায় গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার দিনই রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দিও দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অদিতা পূর্বে রনির কাছে প্রাইভেট পড়ত। পরে সে অন্য শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসার বাইরে থাকাকালে তিনি বাসায় প্রবেশ করেন এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহের অবস্থার পরিবর্তন ও ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন, যা এখন পুনরায় পরিবর্তন করা হলো।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | অদিতার মরদেহ উদ্ধার |
| ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ রাত | অভিযুক্ত রনির গ্রেপ্তার |
| তদন্ত পর্যায় | আলামত উদ্ধার ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি |
| বিচারিক সাক্ষ্যগ্রহণ | বাদীপক্ষ ৪১ জন, আসামিপক্ষ ৫ জন সাক্ষী |
| ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | রায় ঘোষণার তারিখ পুনর্নির্ধারণ |
| ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | নতুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত |
নিহতের মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, তার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন একমাত্র দাবি। তিনি বলেন, এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচারের দাবিতে একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও পালিত হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই মামলার রায় ঘিরে এখন আবারও পুরো এলাকায় নতুন করে উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।