আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের জন্য সাহায্যবাহী জলযাত্রায় অংশ নেওয়া সুইডিশ পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ মোট ১৫৬ জন অভিযাত্রীকে ইসরায়েল গ্রিসে ফেরত পাঠাচ্ছে। শনিবার দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল আই ২৪ নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রিসের নাগরিক এবং গ্রেটাসহ সর্বমোট ১৬৫ জন জলযাত্রীকে একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে গ্রিসে পাঠানো হচ্ছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত এই মিশনে ৪৩টি নৌযান অংশগ্রহণ করেছিল। গত ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে তারা গাজার দিকে যাত্রা শুরু করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার অধিবাসীদের জন্য খাদ্যদ্রব্য ও ঔষধপত্র নিয়ে এই বহর রওনা হয়েছিল। ফিলিস্তিনপন্থি চারটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জোট ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (FFC)’ এই মিশনের আয়োজন করে।
এই অভিযানে ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ জন মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আইনজ্ঞ, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং স্বেচ্ছাসেবকরা। সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলনের নেত্রী গ্রেটা থুনবার্গ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাও এই বহরের অংশ ছিলেন।
গত বুধবার রাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনী প্রথম পর্যায়ে ১৩টি নৌযান আটক করে। এরপরও বাকি ৩০টি নৌযান গাজার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সবচেয়ে এগিয়ে ছিল পোল্যান্ডের ‘ম্যারিনেত্তি’ নামের জাহাজটি। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ঐ সব নৌযানও ইসরায়েলি সৈন্যরা আটক করে এবং অভিযাত্রীদের আশদোদ বন্দরে আটকে রাখে।
আই ২৪ নিউজ জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে গ্রিসে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক থাকাকালীন গ্রেটা থুনবার্গকে ইসরায়েলে সুইডেনের দূতাবাস কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়। সেই সময়ে তিনি জানান, তাঁকে ছারপোকায় পূর্ণ একটি কক্ষে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হচ্ছে না।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁকে জোরপূর্বক ইসরায়েলের পতাকায় চুম্বন করতে এবং সেই পতাকা ধরে আলোকচিত্র তুলতে বাধ্য করা হয়। অভিযাত্রী দলের একজন সদস্য, ইতালীয় সাংবাদিক লরেঞ্জো ডি’ আগুস্টিনো গার্ডিয়ানকে জানান, ‘আমাদের চোখের সামনে গ্রেটাকে হামাগুড়ি দিতে, পতাকায় চুমু খেতে এবং সেটি শরীরে জড়িয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।’
সূত্র: আই ২৪ নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, আনাদোলু এজেন্সি
খবরওয়ালা/টিএসএন