খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৭ এএম
অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল আবহে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছেন। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও শেকড়ের টানে তারা একতাবদ্ধ হয়ে নিউক্যাসল বাংলাদেশি কমিউনিটি (এনবিসি)-এর উদ্যোগে একটি সুবিশাল অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। সিডনির অদূরে লেক ম্যাককুয়ারি সংলগ্ন স্পিয়ার্স পয়েন্ট পার্কে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়।
এবারের আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল ৩.৭ মিটার (প্রায় ১২ ফুট) উচ্চতার একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার। সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি এই মিনারটি বাঙালির মহান আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পার্কের উন্মুক্ত চত্বরে স্থাপন করা হয়। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ কাঠের তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনার। নিপুণ কারুকার্যে নির্মিত এই মিনারটি প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মূর্ত করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই পার্কের শান্ত পরিবেশ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরা পর্যন্ত নগ্ন পায়ে ফুল হাতে সারিবদ্ধভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণসমূহ:
প্রভাতফেরি: সমবেত কণ্ঠে একুশের গান গেয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
আলোচনা সভা: প্রবাসে বাংলা ভাষার চর্চা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরা।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: শিশুদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান।
অতিথি উপস্থিতি: স্থানীয় অস্ট্রেলীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাঙালির এই মহান অর্জনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
| বিষয় | নিউক্যাসল (এনবিসি আয়োজন) | সাধারণ প্রবাস আয়োজন |
| মিনার কাঠামো | ৩.৭ মিটার উচ্চতার কাঠের তৈরি মিনার | ছোট বা কাগজের মিনার |
| আয়োজক | নিউক্যাসল বাংলাদেশি কমিউনিটি | ব্যক্তিগত বা ক্ষুদ্র সংগঠন |
| মূল থিম | ঐতিহ্য ও ইতিহাসের বিশদ প্রতিফলন | সংক্ষিপ্ত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন |
| অংশগ্রহণ | শতাধিক পরিবার ও স্থানীয় বিদেশি অতিথি | সীমিত পরিসরের জমায়েত |
নিউক্যাসল বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ জানান, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে পরিচিত করা এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের মনে স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সিডনির উত্তরাঞ্চলের এই বিশাল জমায়েত দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা এই ধরনের প্রতীকী শহীদ মিনার নির্মাণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এটি স্থায়ীভাবে করার বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে স্পিয়ার্স পয়েন্ট পার্কের সেই প্রান্তরটি কিছুক্ষণের জন্য হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।
মন্তব্য