খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধাপরাধ তদন্ত বাতিল করবে না। কোর্টের এই অটল অবস্থান আইসিসি এবং রোম স্ট্যাটিউটের সংবিধানগত অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিফলন। আইসিসির বার্ষিক সভার পর, আসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস (এএসপি) এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা কোর্টের ওপর কোনো হুমকি বা প্ররোচনামূলক পদক্ষেপকে সহ্য করবে না এবং রোম স্ট্যাটিউটের মৌলিক নীতিগুলো বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোর্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর অর্থনৈতিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও, আইসিসি এই চাপের মুখে পদক্ষেপ বদলাতে রাজি হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষভাবে ইসরায়েল ও আফগানিস্তানের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত বন্ধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিল। তবে আইসিসি এই প্ররোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সংস্থার স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আইসিসি ইতিমধ্যেই গোপনভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করা যায় এবং তদন্তের কার্যকারিতা বজায় থাকে। এএসপির ঘোষণায় নির্বাচিত কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক পদক্ষেপকে সমালোচনা করা হয়েছে। আইসিসি জানাচ্ছে, যে কোনো প্রস্তাবনা যা কোর্টের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তা সংস্থার জন্য ক্ষতিকর।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা ও দখলকৃত ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো কোর্ট ও প্রসিকিউটরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এমন সব হুমকি ও বাধা সত্ত্বেও তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
আইসিসি বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত যা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য বিচার করতে সক্ষম। এই আদালত বর্তমানে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন, ইউক্রেন, আফগানিস্তান, দারফুর, লিবিয়া, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও ফিলিপাইন। আদালতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।