খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৯ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে আজ থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি কার্যকর করেছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করে বাড়ানো হয়েছে, যাতে বাজারে চলমান চাপ কিছুটা কমানো যায়।
বিপিসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ নির্ধারণ করা হচ্ছিল গত বছরের গড় চাহিদার ভিত্তিতে। এই ব্যবধানের কারণে সাময়িক ঘাটতি ও বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ শুরু হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলের আনুমানিক চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে কার্যকর মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ দুই হাজার টন। এর বাইরে আরও চারটি জাহাজে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল দেশে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা করে প্রায় আশি হাজার টন মজুত রাখা আছে। আগে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় এগারো হাজার একশ সাত টন, যা এখন বাড়িয়ে প্রায় তেরো হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় এগারো হাজার আটশ বাষট্টি টন।
অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদা বৃদ্ধির চাপ রয়েছে। বর্তমানে দেশে অকটেন মজুত রয়েছে প্রায় উনত্রিশ হাজার চারশ চুরাশি টন, যা আনুমানিক পঁচিশ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবে বাজার স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক সরবরাহ এক হাজার একশ ঊনত্রিশ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় এক হাজার তিনশ ছেষট্টি টনে উন্নীত করা হচ্ছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত দুইশ সাতত্রিশ টন যোগ হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় এক হাজার একশ পঁচাশি টন।
পেট্রলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় আঠারো হাজার আটশ ত্রিশ টন। এপ্রিলে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় এক হাজার দুইশ তিপ্পান্ন টন। এতে অতিরিক্ত একশ সাতত্রিশ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল প্রায় এক হাজার তিনশ চুয়াত্তর টন।
নিচের সারণিতে প্রধান জ্বালানি তেলের বর্তমান অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
সারণি: জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত ও সরবরাহ পরিবর্তন
| জ্বালানির ধরন | বর্তমান মজুত (টন) | দৈনিক গড় সরবরাহ (টন) | বৃদ্ধি (টন) |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ১০২০০০ | ১১০৭০ থেকে ১৩০০০ | বৃদ্ধি হয়েছে |
| অকটেন | ২৯৪৮৪ | ১১২৯ থেকে ১৩৬৬ | ২৩৭ |
| পেট্রল | ১৮৮৩০ | ১২৫৩ এর সঙ্গে বৃদ্ধি | ১৩৭ |
জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত দেশে বার্ষিক চাহিদা চার থেকে পাঁচ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, মূল্য সমন্বয়ের ফলে অপ্রয়োজনীয় মজুত প্রবণতা কমবে এবং বিক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা করছেন।