খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাত্র ১৮০ সেকেন্ড বা তিন মিনিটে ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে সক্ষম এক বিশেষ চিকিৎসা-প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। ‘বোন গ্লু’ বা ‘হাড়ের আঠা’ নামে পরিচিত এ উদ্ভাবন শরীরে প্রাকৃতিকভাবে শোষিত হয়ে যায়। ফলে ধাতব ইমপ্ল্যান্টের মতো অপসারণের জন্য দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের গবেষক দল নতুন এই হাড়ের আঠা ‘বোন-০২’ (Bone-02) আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করে।
গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন স্যার রান রান শো হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী প্রধান সার্জন লিন শিয়েনফেং। তিনি জানান, পানির নিচে সেতুর গায়ে ঝিনুক যেভাবে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকতে পারে, সেই বৈশিষ্ট্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এ আঠার ধারণা আসে। তার দাবি, রক্তময় পরিবেশেও মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটে হাড় দৃঢ়ভাবে জোড়া লাগাতে সক্ষম এই বোন গ্লু।
গবেষকদের মতে, ‘বোন-০২’ পরীক্ষাগারে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সব মান পূরণ করেছে। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে যেখানে হাড় জোড়া দিতে বড় ছিদ্র করে ইস্পাতের পাত ও স্ক্রু বসাতে হয়, সেখানে এ আঠা ব্যবহার করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব মাত্র ১৮০ সেকেন্ডে।
চীনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১৫০ জনের বেশি রোগীর ওপর এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।
গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, আঠাটি সর্বোচ্চ ৪০০ পাউন্ড চাপ সহ্য করতে পারে। পাশ থেকে চাপ পড়লেও এটি প্রায় ৫ লাখ প্যাসকাল (শেয়ার স্ট্রেন্থ ০.৫ মেগা প্যাসকাল) পর্যন্ত ভাঙে না এবং ওপর থেকে চাপ দিলে ১ কোটি প্যাসকাল (কমপ্রেসিভ স্ট্রেন্থ ১০ মেগা প্যাসকাল) পর্যন্ত সহ্য করতে সক্ষম। ফলে ধাতব ইমপ্ল্যান্টের বিকল্প হিসেবে একে বিবেচনা করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে এটি সংক্রমণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের বোন সিমেন্ট ও বোন ভয়েড ফিলার থাকলেও, সেগুলো আঠালো বৈশিষ্ট্য দাবি করে না। ১৯৪০-এর দশকে প্রথম তৈরি হওয়া হাড়ের আঠা ছিল জেলাটিন, ইপোক্সি রেজিন ও অ্যাক্রিলেটভিত্তিক। তবে জৈব-সামঞ্জস্যতা না থাকায় সেগুলো মানবদেহে ব্যবহারের উপযোগী হয়নি।
খবরওয়ালা/শরিফ