খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৫৪ পিএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ থানার সামনে বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১টার দিকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং এলাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবরের একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় বেতন বিতরণের সময় ১০–১২ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল চাঁদা আদায় ও টাকা–মোবাইল ছিনতাই। এ সময় কারখানার মালিক ও কয়েকজন শ্রমিক বাধা দিলে তাদের কুপিয়ে আহত করা হয়। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার খবর আশপাশের অন্যান্য কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযুক্তদের নেতা হিসেবে পরিচিত রাসেলের বাড়ি ঘেরাও করেন। তবে তাকে না পেয়ে তার বাবাকে অবরোধ করে রাখেন। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে রাসেলের বাবা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নিয়ে আসে। এরপর উত্তেজিত জনতা থানার সামনে জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির মালিক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, আদাবর ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে বেতন বিতরণের দিনগুলোতে কারখানাগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকে। ব্যবসায়ীরা জানান, নিয়মিত চাঁদা না দিলে হামলা, ভাঙচুর বা শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটছে, যা শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিচে ঘটনার প্রাথমিক তথ্যসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | এমব্রয়ডারি কারখানায় সশস্ত্র হামলা |
| স্থান | আদাবর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা |
| সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ও রাত ১টা পর্যন্ত |
| হামলাকারী | ১০–১২ সদস্যের সশস্ত্র দল |
| আহত | মালিকসহ কয়েকজন শ্রমিক |
| আইনগত পদক্ষেপ | মামলা দায়ের, তদন্ত চলমান |
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে এবং শ্রমিকরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন।
মন্তব্য