খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বলেছেন, বাংলাদেশে গত এক বছর ধরে চলা ব্যাপক মব-সহিংসতা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতকে বিঘ্নিত করার পথে। রবিবার (৩১ আগস্ট) তিনি একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন।
জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে গত এক বছর ধরে ব্যাপক মব-সহিংসতা চলছে। চলতে চলতে সেটা সম্প্রতি এক চূড়ান্ত চেহারা নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতকে বিঘ্নিত হওয়ার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মাঝেই ঘটলো নুরুল হক নুরের আহত হওয়ার ঘটনা। জাপার অফিসের সামনে গণঅধিকার পরিষদ ও জাপার কর্মীদের ধাওয়া-পাওয়ার মাঝে পুলিশ যখন বাজেভাবে আক্রান্ত হয় তখন তাদের আহ্বানে সেনাবাহিনী সেখানে যায় এবং তারা পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের এক পর্যায়ে নুর গুরুতর আহত হন। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্তকারীদের ভাষ্যের আগে কোন মন্তব্য করতে আগ্রহী নই।’
দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নিরব ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এর মাঝে কৌতুককর একটা বিষয় দেখছি, হঠাৎ দেশের একদল বুদ্ধিজীবী একটা বিবৃতি দিয়েছেন এ নিয়ে। শুধু ‘বুদ্ধিজীবী’ না, পত্রিকাগুলো লিখেছে ‘বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী’। এই বিশিষ্টরা আইন-শৃংখলা বাহিনীকে গণতান্ত্রিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মূলত এটাই হলো বিবৃতির মূলকথা। যখন দুই দলের রাজনৈতিক কর্মীরা পরস্পর হামলায় লিপ্ত হচ্ছে, এক দল আরেক দলের অফিসে আক্রমণ করছে, যখন চিহ্নিত মহলকর্তৃক শত শত মাজার ভাংগা হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের চোর সাব্যস্তত করে হত্যা করা হচ্ছে, মতিঝিলে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের বেধড়ক পিটানো হলো, মুরাদনগরে মাদক ব্যবহারকারী বলে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো, নারী অধিকারকর্মীদের বেশ্যা বলে সামাজিক জনমত তৈরি করা হচ্ছে, দিনের পর দিন নানান উছিলায় ঢাকার রাজপথগুলো অবরোধ করে দেশটির রাজধানীকে প্রায় অচল করে দেয়া হচ্ছে — তখন এই বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা অনেকটাই চুপ করে ছিলেন। তাঁরা কিন্তু মবকারীদের গণতান্ত্রিক আচরণ শেখাতে আসে নাই।’
মব-সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে গেলে বিভিন্নভাবে তাদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জুলকারনাইন সায়ের। তিনি বলেন, ‘এখন যখনি বিভিন্ন বাহিনী রাজধানীতে একটু শক্ত ভূমিকা নিচ্ছে তখন এসব বুদ্ধিজীবীরা তাদের গণতান্ত্রিক আচরণ শিখাতে আসছেন। ভালো কথা। কিন্তু লাঠি ছাড়া মবকে আর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে—তারা একটু ব্যাখ্যা করবেন কি? চুমু দিয়ে নাকি পিঠে হাত বুলিয়ে, বিশেষ করে যখন তাদের ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরা বলছে, মব হলো বিপ্লবীপণা। আমাদের মনে আছে, এই বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের ঘনিষ্ঠ প্রেসার সচিব বলেছেন, মব হলো প্রেসার গ্রুপ। মব-সহিংসতাকে মব বলা ভারি অন্যায়। তো এরকম প্রেসার গ্রুপের কাজ তাহলে চলুক।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে আপনারা বরং দয়া করে ব্যারাকে পাঠান। এক বছরে তারা এমনিতেও বেশ ক্লান্ত। সেনাবাহিনী দেশের প্রতিরক্ষার কাজেই থাকুক। আপনারা গণতান্ত্রিক মব নিয়ে এগিয়ে যান, বাংলাদেশকে ফেইলড স্টেট হিসেবে কায়েমের দিকে এগিয়ে নিন।’
খবরওয়ালা/শরিফ