খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৫ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জনগণের উদ্দেশে বলেন, “আমরা আপনাদের নিরাপদ রাখবো, আপনাদের ধনী বানাবো, এবং একসাথে আমরা গ্রিনল্যান্ডকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাবো, যা আপনি কখনো ভাবেননি।”
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) কংগ্রেসে দেয়া বক্তৃতায় গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বক্তৃতায় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জনগণের জন্য সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার দৃশ্যমান চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “এটি খুব কম জনগণ নিয়ে হলেও অনেক বেশি ভূমি রয়েছে, যা সামরিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে, এক জরিপে দেখা গেছে যে, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছে এবং অনেকেই ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বলেছিলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বানাতে চান। তবে ন্যাটো সহযোগী দেশ ডেনমার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এটি বিক্রি করবে না।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি ইউরোপ থেকে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক মিসাইল সতর্কতা সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা এটি আসলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন।”
বক্তৃতায় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জনগণের জন্য একটি বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা আপনাদের ভবিষ্যত নির্ধারণের অধিকারকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। যদি আপনারা চান, আমরা আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাবো।”
গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ স্বাধীনতা আন্দোলনকে উজ্জীবিত করেছে, যার ফলে ডেনমার্কের সঙ্গে দ্রুত স্বাধীনতার আলোচনা শুরু করার আহ্বান উঠেছে রাজ্যটিতে।
তবে, গ্রিনল্যান্ডের শাসক ইনুইট আটায়াকিউগিট পার্টি জানিয়েছে, তারা আগামী ১১ মার্চের সাধারণ নির্বাচনের পর স্বাধীনতা ভোটে তাড়াহুড়া করবে না, কারণ এটি অর্থনৈতিক ও কল্যাণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যত জনগণের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল, বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের ইউএস অ্যাম্বাসেডর ক্রিস্টিনা মার্কাস লাসেন। তিনি সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “স্বাধীনতা সম্ভব এবং তাদের আত্ম-নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। ডেনমার্ক ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একমত যে, বর্তমানে গোপনীয় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া, এটি নিয়ে আমরা ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একসাথে কাজ করে আসছি অনেক বছর ধরে।”
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
খবরওয়ালা/জেআর