খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাওয়ালপিন্ডির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) সোমবার ২৬ নভেম্বরের প্রতিবাদ-সংক্রান্ত মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় আলিমা খানের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালত তার হাজিরা মওকুফের আবেদন খারিজ করে জানায়, অনুপস্থিতির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ দেখানো হয়নি।
শুনানি নেন এটিসি বিচারক আমজাদ আলী শাহ, যিনি মন্তব্য করেন যে আলিমার ‘দায়িত্বহীনতার’ কারণে সাক্ষীদের ৩৭ বার আদালতে হাজির হতে হয়েছে, যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করেছে। আদালত রাওয়াল সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশকে (এসপি) নির্দেশ দেন পরোয়ানা কার্যকর করতে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে একই মামলায় বারবার অনুপস্থিত থাকার কারণে আলিমার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সর্বশেষ ২ ফেব্রুয়ারি তার আইনজীবী আদালতে জানান, ব্যাংক হিসাব এবং জাতীয় পরিচয়পত্র আনফ্রিজ না হওয়া পর্যন্ত আলিমা আদালতে হাজির হবেন না। আদালত পুলিশকে তাকে গ্রেফতার করে হাজির করার নির্দেশ দেয়, কিন্তু ব্যাংক হিসাব ও পরিচয়পত্র স্থগিত থাকবে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে আদালতের নির্দেশে জাতীয় ডাটাবেস ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (নাদরা) আলিমার কম্পিউটারাইজড জাতীয় পরিচয়পত্র (সিএনআইসি) ও পাসপোর্ট ব্লক করে।
মামলাটি ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর গ্যারিসন শহরে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। ওই বিক্ষোভে আলিমাসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
| তারিখ | শহর | অংশগ্রহণকারী দল | ঘটনাসমূহ | পুলিশি পদক্ষেপ |
|---|---|---|---|---|
| ২৬ নভেম্বর ২০২৪ | গ্যারিসন | পিটিআই সমর্থকরা | জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, সংঘর্ষ | টিয়ারগ্যাস ব্যবহার |
| ২৬-২৮ নভেম্বর ২০২৪ | ইসলামাবাদ | পিটিআই সমর্থকরা | ডি-চৌকের কাছে পুলিশি সঙ্গে সংঘর্ষ | তিন দিনের সহিংস সংঘর্ষ |
| সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি |
এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার মুক্তির দাবিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ৭১ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার-থেকে-রাজনীতিক এই নেতা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি আছেন। তিনি ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের পর ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালতের এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে, আলিমার অনুপস্থিতি আর বিচারপ্রক্রিয়ার বিলম্বকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তবে, তার বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি এখনও অজানা থাকায়, পরবর্তী ধাপগুলো বিচারব্যবস্থার নজরদারিতে থাকবে।