খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে যার আবির্ভাব হয়েছিল, সেই আলেহান্দ্রো গারনাচো এখন ক্যারিয়ারের এক কঠিন সময় পার করছেন। ২০২২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক ঘটিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। গতির সাথে স্কিল এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে কিংবদন্তি পল স্কোলস তাকে ‘শিল্পী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই উচ্চাশা এখন ফিকে হতে শুরু করেছে।
২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে সময় কাটানোর পর ২০২৫ সালে গারনাচো যোগ দেন চেলসিতে। ইউনাইটেড থেকে তার বিদায়ের নেপথ্যে ছিল তৎকালীন কোচ রুবেন আমোরিমের সাথে কৌশলগত বিরোধ। আমোরিমের গেমপ্ল্যানে গারনাচোর স্বাভাবিক উইঙ্গার পজিশনের অভাব এবং তাকে ভিন্ন পজিশনে (নম্বর ১০) খেলানোর সিদ্ধান্ত গারনাচো সহজভাবে নিতে পারেননি।
সম্প্রতি ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেডের কাছে চেলসির হারের পর গারনাচোকে সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। মাঠ থেকে বদলি হিসেবে উঠে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার লুক শ একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে গারনাচোকে পরাস্ত করার দৃশ্য দেখা যায়। এই পোস্টে ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজসহ সাবেক সতীর্থদের নেতিবাচক মন্তব্য গারনাচোর বর্তমান সামাজিক ও পেশাদার অবস্থানের ভঙ্গুরতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
চলতি মৌসুমে গারনাচোর পারফরম্যান্স তার প্রতিভার তুলনায় বেশ হতাশাজনক। চেলসির হয়ে এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতায় তার অবদান নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| প্রতিযোগিতার ধরণ | ম্যাচ সংখ্যা | গোল সংখ্যা | অ্যাসিস্ট |
| ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ | ২২ | ০১ | ০৪ |
| অন্যান্য (সব মিলিয়ে) | ১৭ | ০৭ | ০— |
| সর্বমোট | ৩৯ | ০৮ | ০৪ |
প্রিমিয়ার লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে ২২ ম্যাচে মাত্র ১টি গোল তার বর্তমান ফর্মের শোচনীয় অবস্থা নির্দেশ করে, যা চেলসির পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
স্পেনে জন্মগ্রহণ করলেও গারনাচো আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য আর্জেন্টিনাকে বেছে নিয়েছিলেন। লিওনেল মেসিকে আদর্শ মেনে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে এ পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর থেকে তাকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি।
২০২২ বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার অভাবে জায়গা না পেলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার অফ-ফর্ম। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির বর্তমান পরিকল্পনায় গারনাচোর নাম নেই বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ যদি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ হয়, তবে সেই ঐতিহাসিক আসরে গারনাচোর অংশগ্রহণ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে।
এক সাক্ষাৎকারে গারনাচো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার বিষয়ে কিছুটা অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। শৈশবের ক্লাব এবং সমর্থকদের প্রতি তার ভালোবাসা থাকলেও ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপের জন্য তিনি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। তবে মাঠের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ তাকে আজ এই অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ভবিষ্যতে বড় কিছু করার স্বপ্ন থাকলেও, বর্তমান ফর্ম এবং কোচের আস্থার অভাব গারনাচোর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে হলে তাকে চেলসির হয়ে দ্রুত ফর্মে ফিরতে হবে, অন্যথায় স্পেনের বদলে আর্জেন্টিনাকে বেছে নেওয়ার আবেগপূর্ণ সিদ্ধান্তটি কেবল আক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।