খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১৭ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে টানা দুই সপ্তাহের আলোচনা শেষ হলেও বাংলাদেশের জন্য আসছে না আশার খবর। ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সংস্থাটি। স্টাফ লেভেল চুক্তিও হয়নি, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—আইএমএফ এখনই ‘হ্যাঁ’ বলার মতো প্রস্তুত নয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনা আরও চলবে, এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের শেষ দিকে একসঙ্গে দুই কিস্তির অর্থ ছাড় হতে পারে।
মিশনপ্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ২১ থেকে ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা হবে।
পাপাজর্জিও আরও বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা মোটামুটি ভালো এবং তা তাদের পূর্বানুমানের চেয়েও বেশি। তবে মুদ্রার বিনিময় হার আরও নমনীয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে।
তবে আলোচনার মূল বাঁধা কোথায়?
আইএমএফের মূল জোর এখন করব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংক খাতে সুশাসন, এবং অর্থ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর। করনীতিকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে বলেছে সংস্থাটি। করছাড় কমানো, রাজস্ব আদায়ের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা জোরদারের ওপরও জোর দিয়েছে তারা।
এ ছাড়া আইএমএফ মনে করছে, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে সরকারের অগ্রগতি এখনও পর্যাপ্ত নয়। এই বিষয়গুলোতেই মূলত গিয়েছে জট।
দুই সপ্তাহের টানা বৈঠকেও মিলল না সবুজ সংকেত
৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই মিশনে আইএমএফ দলটি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করে। এমনকি তারা অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও দুই দফা বৈঠক করেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত আগের মতো কোনও ‘স্টাফ লেভেল চুক্তি’ হয়নি। অর্থাৎ আইএমএফ এবার আগাম সম্মতির ইঙ্গিত দেয়নি।
আশার আলো
সরকার আশা করছে, আলোচনার বাকি ধাপগুলো মসৃণভাবে শেষ হলে জুনের শেষ দিকে একসঙ্গে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড় পেতে পারে বাংলাদেশ।
ইতিমধ্যে কত টাকা মিলেছে?
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে পেয়েছে মোট ২৩১ কোটি ডলার। বাকি আছে আরও ২৩৯ কোটি ডলার। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, বাকি অর্থ ছাড় পাওয়া ততটাই কঠিন হয়ে উঠছে।
খবরওয়ালা/আরডি