আল ইমরান সিদ্দিকী
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
লেক জর্জ
(হিজল জোবায়েরের জন্য)
বসে আছি, লেক জর্জের দক্ষিণ বেসিনের সামনে—
প্যারাসেইলিং করছে কয়েকজন। বোটগুলি ঘুরছে ইতস্তত। বিকিনিপরা
কয়েকটি নারী সূর্যস্নান করছে। লেকঘেঁষা দোকানগুলিতে
মুহুর্মুহু খোলা হচ্ছে বিয়ারের বোতল ।
থেকে থেকে ভেঁপু দিয়ে পাড়ে ভিড়ছে ক্রুজগুলি। ভালো এই সব দৃশ্য।
ইচ্ছা ছিল তোর ফ্রান্সের কোনো সমুদ্রতীরে
বিকিনিপরা লাস্যময়ী নারীদের মাঝখানে শুয়ে সূর্যস্নান করার
আর কুমিরের মাংসের স্টেক খাবার। মূলত এসব কিছুই নয়—মূলত
‘কবির জীবন’ সম্পর্কে একটি ধারণার প্রকাশমাত্র। বোহিমিয়ান জীবন,
জীবনকে নানাভাবে ভেঙেচুরে দেখা।
ভালো এই সব দৃশ্য। শুধু দেখার ক্লান্তির শীর্ষে ডালভাতের খিদা জেগে ওঠে।
আফ্রোদিতি
বিশাল শহর, সূর্যের সে কী গতি!
গ্রাফিতির পাশে দাঁড়াল আফ্রোদিতি।
গুচির টি-শার্ট, হাঁটুছেঁড়া জিনস, সাদা জুতা জোড়া পায়ে
গাঁজার গন্ধে পাগল বাতাস আছড়ায় তার গায়ে।
গ্রীষ্মের দিন, রোদ সমীচীন
যত রোদ লাগে গায়
আফ্রোদিতি সে, কম যায় কিসে
দ্যুতি তার ঠিকরায়।
আক্ষেপ নেই আমার কিন্তু
আর দেখব না বলে
মধু সবটুকু মধু হয়ে থাক
কাজ কীবা হলাহলে?
অনেকেই দেখি করে হাঁসফাঁস
বুকভরে তারা নিতে চায় শ্বাস
কিন্তু বাতাস, কোথায় বাতাস!
গাঁজার গন্ধে পাগল বাতাস আমাদের গেছে ভুলে
সব মনোযোগ পড়ে আছে তার আফ্রোদিতির চুলে।
সামাজিক
তোমার সাথে আমার স্মৃতির সবটুকুতে
কবিত্বের অহং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
যখন পরিপার্শ্বের প্রতি এইভাবে মনোযোগী হয়েছি
যখন বাগানে দিচ্ছি সার গোলাপগাছের গোড়ায়,
মাটির তলা থেকে তুলে আনছি আলু
অথবা সব শেষ হলে, শীতের আগে
জড়ো করছি শুকনো পাতা—সন্তানের মুখে
তুলে দিচ্ছি ভাত—একবার
এসে দেখো, সেই কবেকার তুমি—
এসে ক্ষমা করে দিয়ে যাও।