হিজল জোবায়ের
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
লঘুভার
জন্মান্ধ এক অভিশপ্ত সিবিলের নিশ্বাসে ছাওয়া বন। দুঃস্বপ্ন দিয়ে ঘুম আর জাগরণের সেতুবন্ধ রচনা করা হয়েছে এখানে।
হেমন্তের শেষ পাতাগুলো ঝরে পড়ছে গোধূলির সোনালি বিলাসে গা এলিয়ে, ভেসে যাচ্ছে উত্তুরে হাওয়ার পিঠে চড়ে।
আবছায়া স্মৃতির মতো হালকা তার ভার।
তবু একদিন, ফুলের সুরভিত আগ্রাসনের মতো আমাকে সে দখলে নিয়েছিল আকাশের নীল স্বর্গীয়তায়।
বিষাদের ঘুণে ধরা নীল করোটি-ভর্তি মদ হাতে খলরূপে মৃত্যু এসেছিল। আমাকে লেহন করেছে, লেহন করেছে আর তোমার ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছে— নতুন কিছুই নয় মরে যাওয়া; আর এই বেঁচে থাকা, এ-ও নয় নতুন কিছু।
নির্মোক
আমি আজ ভরে আছি না-পাওয়ার বেদনায়, শূন্য কোলে, সন্তানহারা মায়ের নিখিলে।
তুমি শুধু চেনা ছিলে। যারা এল, আমি এর কাউকে চিনি না।
তোমার শ্বাস উবে যাচ্ছে আমার ভেতর থেকে। শূন্য হয়ে যাচ্ছে, আহ্, হাওয়ায় ভরে ওঠা অবোধ শিশুর বেলুন!
তুমি নিজেকে ঊহ্য করেছ। গুম হয়ে গেছ তুমি শ্রবণ অবধি। তোমার সমস্ত আড়াল থেকে মুছে যাচ্ছে জ্যোৎস্নার সৌরভ।
নিভে গেছে, অন্ধকারে ফুটে ওঠা আঙুলের জ্বলন্ত চোখ। ফিরে গেছ, হে কামঠ, তোমার চিরন্তন খোলসে আবার।
দেয়াল ভেঙে গেছে, ভেঙে গেছে ঘর।
এখন কেবল হাওয়া, হু হু প্রান্তর।
চারপাশে অবিশ্রান্ত এত হাওয়া বয়। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আহ্, এত এত হাওয়ার ভেতর।
মাতৃকা
এই প্রেম একে বাঁচিয়ে রাখতে হবে
এই প্রেম এর ঠেকাতে হবে মরণ
দুইজনে মিলে চলো দিই তা তবে
কুরুক্ষেত্রে মহারণ মহারণ
আগলাও একে শিশুকে যেভাবে মা
জগতের যত অনিষ্টে দেয় ত্রাণ
শিকারির মুখে উন্মাদ বাঘিনী
ছুটে আয় প্রেম, অ্যায় মেরে ভগবান
এই প্রেম এর লেলিহান দাবানল
থেমে গিয়ে রবে নিবু নিবু এক শিখা
বাঁচাবে না তাকে প্রবল ঝড়ের থেকে?
প্রেম তো আদতে অবিনাশ-মাতৃকা