খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ পবিত্র হজ পালনকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, হজের অনুমতিপত্র বা পারমিট ছাড়া হজ পালন করা অথবা এই প্রক্রিয়ায় কাউকে সহায়তা করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে যারা অবৈধভাবে আগত হজযাত্রীদের আবাসন বা যাতায়াত সুবিধা প্রদান করবেন, তাদের জন্য ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বিশেষ বিধিনিষেধ ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মূলত জিলহজ মাসকে কেন্দ্র করে মক্কায় হজযাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভিজিট ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের মক্কায় অবস্থান বা প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, অপরাধের ধরন ভেদে শাস্তির মাত্রায় ভিন্নতা রয়েছে। যারা সরাসরি নিয়ম লঙ্ঘন করবেন এবং যারা তাদের সহায়তা করবেন, উভয় পক্ষই আইনের আওতায় আসবে। শাস্তির বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| অপরাধের ধরন | জরিমানার পরিমাণ (সৌদি রিয়াল) | অতিরিক্ত শাস্তি |
| পারমিট ছাড়া হজ পালন বা চেষ্টার অপরাধ | ২০,০০০ রিয়াল (সর্বোচ্চ) | দেশান্তর এবং ১০ বছরের জন্য প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা |
| ভিজিট ভিসায় নিষিদ্ধ সময়ে মক্কায় অবস্থান | ২০,০০০ রিয়াল | আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ |
| অবৈধ হজযাত্রীদের আবাসন বা আশ্রয় প্রদান | ১,০০,০০০ রিয়াল (সর্বোচ্চ) | জেল হাজত ও আইনি ব্যবস্থা |
| অবৈধ হজযাত্রীদের পরিবহন বা যাতায়াত সুবিধা | ১,০০,০০০ রিয়াল (সর্বোচ্চ) | পরিবহন যান বা গাড়ি জব্দ করা |
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অবৈধভাবে হজযাত্রীদের আশ্রয় দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা প্রক্রিয়া করে দেওয়া, ব্যক্তিগত গাড়ি বা গণপরিবহনে করে আনা-নেওয়া করা এবং হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট বা এমনকি ব্যক্তিগত বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা। যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক অবৈধ হজযাত্রীকে সহায়তা করেন, তবে অপরাধীর সংখ্যা অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ গুণিতক হারে বৃদ্ধি পাবে।
অনুমতি ছাড়া মক্কায় প্রবেশকারী বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থানকারীদের জন্য কেবল আর্থিক দণ্ডই যথেষ্ট নয়। তাদের অবিলম্বে সৌদি আরব থেকে বিতাড়িত করা হবে এবং পরবর্তী ১০ বছরের জন্য দেশটিতে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। এ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত যেকোনো যানবাহন কর্তৃপক্ষ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রাখে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পবিত্র হজের পবিত্রতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সকল নাগরিক, প্রবাসী এবং দর্শনার্থীদের প্রচলিত আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো প্রকার অনিয়ম বা অবৈধ কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে অবিলম্বে নিরাপত্তা বাহিনীকে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মূলত হজের মৌসুমে বিশৃঙ্খলা রোধ এবং প্রকৃত পারমিটধারী হজযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই এই কঠোর আইনের মূল লক্ষ্য।