বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন পপ সংগীতশিল্পী কেটি পেরির বিরুদ্ধে আবারও যৌন অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগটি করেছেন তার সঙ্গে পূর্বে কাজ করা অভিনেতা জোশ ক্লোস। একই সময়ে অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী রুবি রোজের পক্ষ থেকেও পেরির বিরুদ্ধে আলাদা একটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
জোশ ক্লোস দাবি করেন, ২০১২ সালে একটি ব্যক্তিগত পার্টিতে কেটি পেরি তার সম্মতি ছাড়াই জনসমক্ষে তাকে অপমানজনক আচরণের শিকার করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি ঘটে পেরির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর জন্মদিনের আয়োজনে, যেখানে হঠাৎ করেই পেরি তার পোশাক টেনে নামিয়ে দেন। ক্লোসের ভাষায়, উপস্থিতদের সামনে তিনি তীব্র বিব্রত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, অথচ ঘটনাটিকে পেরি হাস্যরসের মতো গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, ২০১০ সালে একটি জনপ্রিয় সংগীত ভিডিওতে কাজ করার পর দুই বছর পরে এই ঘটনা ঘটে। ক্লোসের অভিযোগ, ঘটনাটি বহু বছর ধরে তার মানসিক আঘাত হিসেবে থেকে গেছে এবং তিনি এটিকে “নীরব ট্রমা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, রুবি রোজের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালে মেলবোর্নের একটি নাইটক্লাবে কেটি পেরি তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণের শিকার করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পেরির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে অস্বীকার করা হয়েছে। তার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের দাবি সত্য নয় এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
নিচে অভিযোগগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র উপস্থাপন করা হলো—
| অভিযোগকারী |
ঘটনার সময় |
অভিযোগের ধরন |
বর্তমান অবস্থা |
| জোশ ক্লোস |
২০১২ |
জনসমক্ষে অপমানজনক শারীরিক আচরণ |
গণমাধ্যমে প্রকাশিত, আলোচনাধীন |
| রুবি রোজ |
২০১০ |
অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক হেনস্থা |
পুলিশ তদন্তাধীন |
জোশ ক্লোস জানান, প্রথমবার তিনি ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন, তবে তখন অনেকেই তার অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একজন আন্তর্জাতিক তারকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সহজ নয়, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীর কথা বিশ্বাস করা হয় না।
এই ঘটনাগুলো সামনে আসার পর কেটি পেরিকে ঘিরে বিনোদন জগতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একাধিক অভিযোগ একসঙ্গে সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় পর সামনে আসা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে প্রমাণ ও সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে জনমত ও গণমাধ্যমের প্রভাবও তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে কেটি পেরির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে—কিছু জনসমক্ষে আলোচিত, কিছু আবার আইনগত তদন্তের অধীনে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।