খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বরগুনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। গত শুক্রবার দুপুর থেকে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে জেলার সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুই নারী এবং তিন পুরুষ রয়েছেন। এই পাঁচজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে তিনজনের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে, একজনকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে এবং অন্য এক রিকশাচালকের মরদেহ সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়, একজন পাথরঘাটা উপজেলার এবং অপরজন বামনা উপজেলার বাসিন্দা।
১. বরগুনা সদর উপজেলা:
আজ শনিবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া এলাকা থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রায় একই সময়ে সদরের ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে সালেহা বেগম নামের ৯৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম এই দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন (কালু) ও তাঁর সহযোগীরা। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কালু বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালান। বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন নিহত হন। সদর থানার ওসি জানান, নিহত ইব্রাহিম হোসেন এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন, আজ সকালে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গতকাল স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে চিহ্নিত এক সন্ত্রাসী নিহত হন।
২. পাথরঘাটা উপজেলা:
আজ শনিবার ভোরে পাথরঘাটা পৌরসভার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশের সড়ক থেকে মিজানুর রহমান (৪৫) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পাথরঘাটা থানা পুলিশ। নিহত মিজানুর রহমান পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মিজানুর। রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে কোনো এক সময় তিনি পরিবারের অজান্তেই বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। ভোরে সড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মিজানুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।
পাথরঘাটা থানার ওসি মো. এনামুল হক আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন , প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. বামনা উপজেলা:
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বামনা উপজেলার কলাগাছি এলাকা থেকে এহসান (১৮) নামের এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বামনা থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, প্রেমঘটিত কারণে ওই তরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর কানে হেডফোন ছিল। তাঁরা নিহত কলেজছাত্রের মুঠোফোনটি জব্দ করেছেন। মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে বের করা হবে।
নিচে বরগুনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মৃত্যুর স্থান, ধরণ এবং প্রাথমিক কারণের একটি তুলনামূলক তালিকা উপস্থাপন করা হলো:
| নিহতের নাম ও বয়স | এলাকা ও উপজেলা | মরদেহ উদ্ধারের সময় | মৃত্যুর ধরণ | প্রাথমিক কারণ / উৎস |
| মোসা. কনা (৩৪) | লেমুয়া, বরগুনা সদর | Samstag সকাল | ঝুলন্ত মরদেহ | তদন্তাধীন |
| সালেহা বেগম (৯৩) | নলী, বরগুনা সদর | Samstag সকাল | ঝুলন্ত মরদেহ | তদন্তাধীন |
| ইব্রাহিম হোসেন কালু | বরগুনা সদর | Freitag দুপুর | পিটুনিতে মৃত্যু | ইউপি সদস্যকে কোপানোর পর জনতার হামলা |
| মিজানুর রহমান (৪৫) | পাথরঘাটা পৌরসভা | Samstag ভোর | সড়কের পাশে মরদেহ | জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড (অভিযোগ) |
| এহসান (১৮) | কলাগাছি, বামনা | Samstag বেলা ১১:৩০ | ঝুলন্ত মরদেহ | প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা (প্রাথমিক ধারণা) |
সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে একই জেলায় এতগুলো মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে আত্মহত্যার মতো মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে। আত্মহত্যার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে পাড়া-মহল্লায় সভা–সেমিনার করা প্রয়োজন। প্রতিটি ঘটনার সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।