খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল প্রথম লেগে গতকাল রাতে প্যারিসে এক অবিস্মরণীয় ফুটবলীয় উন্মাদনা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার এই দ্বৈরথটি ৯ গোলের এক অবিশ্বাস্য ‘থ্রিলার’ উপহার দিয়েছে, যেখানে স্বাগতিক পিএসজি ৫-৪ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এই ম্যাচে কেবল গোলবন্যাই হয়নি, বরং পরিসংখ্যানের পাতায় যোগ হয়েছে অসংখ্য নতুন রেকর্ড এবং ভেঙেছে পুরোনো অনেক কীর্তি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের দীর্ঘ ইতিহাসে সেমিফাইনালের এক লেগে কখনোই ৯টি গোল করার নজির ছিল না। গতকালের ম্যাচটি সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ফুটবলের যেকোনো বড় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে এই প্রথম উভয় পক্ষই কমপক্ষে ৪টি করে গোল করতে সক্ষম হলো। নকআউট পর্বের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এর আগে মাত্র একবারই দেখা গিয়েছিল। ২০০৮-০৯ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে চেলসি ও লিভারপুল ৪-৪ গোলে ড্র করে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিল।
ম্যাচটির প্রথমার্ধ ছিল গোল উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সেমিফাইনালের প্রথমার্ধেই ৫টি গোল হতে দেখা গেছে। মাঠের ফুটবলে আক্রমণাত্মক কৌশলের এমন প্রতিফলন পরিসংখ্যানগতভাবে ম্যাচটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন। এ ছাড়া বায়ার্ন মিউনিখের জন্য এই মৌসুমটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত সফল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটির তিন জন খেলোয়াড় একই চ্যাম্পিয়নস লিগ মৌসুমে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন।
খেলোয়াড়দের সরাসরি অবদানের পরিসংখ্যান:
| খেলোয়াড়ের নাম | গোল সংখ্যা | অ্যাসিস্ট | মোট অবদান |
| হ্যারি কেইন | ১৩ | ২ | ১৫ |
| মাইকেল ওলিসে | ৫ | ৭ | ১২ |
| লুইস দিয়াজ | ৭ | ৪ | ১১ |
চ্যাম্পিয়নস লিগের একক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ৪৫টি গোল করার রেকর্ডটি এখনো বার্সেলোনার দখলে, যা তারা ১৯৯৯-০০ মৌসুমে অর্জন করেছিল। তবে চলমান মৌসুমে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ যে হারে গোল করছে, তাতে এই রেকর্ডটি ভাঙার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পিএসজির গোল সংখ্যা ৪৩ এবং বায়ার্ন মিউনিখের গোল সংখ্যা ৪২। প্রতিযোগিতার অবশিষ্ট ম্যাচগুলোতে এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলা কেবল সময়ের ব্যাপার বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ম্যাচটিতে পিএসজির আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ছিল শতভাগ। তারা গোল অভিমুখে মোট পাঁচটি শট নিয়েছিল এবং পাঁচটি শটই জালে জড়াতে সক্ষম হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটি একটি বিরল রেকর্ড, কারণ এর আগে কোনো দলই লক্ষ্যে অন্তত পাঁচটি শট রেখে শতভাগ সাফল্য পায়নি।
অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখের জন্য এটি ছিল একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে কোনো দল এক ম্যাচে ৪টি গোল করার পরেও পরাজয় বরণ করেছে। এ ছাড়া ৯ গোলের এই রোমাঞ্চকর লড়াইটি নকআউট পর্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০২০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে বার্সেলোনার ৮-২ গোলে হারের সেই আলোচিত ম্যাচটি।
সব মিলিয়ে, প্যারিসের এই রাতটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় কেবল একটি জয়-পরাজয়ের গল্প হিসেবে নয়, বরং অসংখ্য রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের সংমিশ্রণে এক অনন্য দলিল হিসেবে টিকে থাকবে।