খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টান টান উত্তেজনার এক ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়ে সিরিজে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলো মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
জিততে জিততে ম্যাচটি প্রায় বের করে নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার দুনিথ লিয়ানাগে। শেষ দিকে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াকু ব্যাটিং করছিলেন তিনি। ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন। তখন ১৭ বলে জয়ের জন্য ২১ রান দরকার ছিল এবং শ্রীলঙ্কার হাতে ছিল ২ উইকেট। তবে মোস্তাফিজের দারুণ এক স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন লিয়ানাগে। তার বিদায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাংলাদেশ। লিয়ানাগে ৮৫ বলে ৭৮ রানের একটি সাহসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল।
২৪৮ রানের মাঝারি পুঁজি নিয়েও বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে বাংলাদেশ এই জয় তুলে নিয়েছে। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্ত এক ফাইফার (৫ উইকেট) শিকার করে বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
তানজিম হাসান সাকিব বোলিংয়ে শুরুতেই আঘাত হানেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পাথুম নিশাঙ্কাকে (৫) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শ্রীলঙ্কার ৬ রানে প্রথম উইকেট তুলে নেন।
কুশল মেন্ডিস (৫৬) ও নিশান মাদুশকা (১৭) দ্বিতীয় উইকেটে ৪৫ বলে ৬৯ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন। তানভীর ইসলাম এই জুটি ভাঙেন মাদুশকাকে ফিরিয়ে। পরের ওভারেই তিনি ২০ বলে ফিফটি করা কুশল মেন্ডিসকে এলবিডব্লিউ করেন। মাত্র ৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা চাপে পড়ে।
এরপর শামীম পাটোয়ারী চারিথ আসালাঙ্কাকে (৬) আউট করে দেন। ৯৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস (৩৩) প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তানভীরের শিকার হন। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা, যখন তানভীর তার চতুর্থ উইকেট হিসেবে দুনিথ ওয়াল্লালাগে (১) কে ফেরান।
ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (১৩) মিরাজের বলে আউট হন, এরপর তানভীর তার পঞ্চম উইকেট হিসেবে মাহিশ থিকশানাকে (২) ফেরান। শেষ পর্যন্ত, দুশমন্ত চামিরাকে বোল্ড করে তানজিম সাকিব শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন। শ্রীলঙ্কা ৪৮.৫ ওভারে ২৩২ রানে অলআউট হয়।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৫.৫ ওভারে ২৪৮ রানে অলআউট হয়। একপর্যায়ে ২১৮ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর, তানজিম হাসান সাকিব শেষ ব্যাটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আরও ৩০ রান যোগ করেন। এই জুটিতে মোস্তাফিজের কোনো রানই ছিল না। তানজিম সাকিব ২১ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ২টি করে চার ও ছক্কা ছিল।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান আসে পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে। মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলেই তিনি ৪৬ বলে ফিফটি করেন এবং ৬৯ বলে ৬৭ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেন, যেখানে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিল। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার গুগলি বুঝতে না পেরে তিনি স্টাম্পড হন।
অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তানজিদ হাসান তামিম (৭) এবং নাজমুল হোসেন শান্ত (১৪) সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও (৯) ব্যর্থ হন। শামীম পাটোয়ারী (২২) সেট হয়েও আউট হন। এরপর জাকের আলী (২৪) ও তাওহিদ হৃদয় (৫১) জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। হৃদয়ের ৬৮ বলে লড়াকু ফিফটি তার ক্যারিয়ারের অষ্টম ছিল, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন তিনি। এরপর হাসান মাহমুদ (০) এবং তানভীর ইসলাম (৪) দ্রুত আউট হলে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি গড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে, তবে তানজিম সাকিবের শেষ দিকের ঝলকে দল সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছায়।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচটি আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
খবরওয়ালা/টিএস